kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাল সনদে ২৪ বছর চাকরি

গাড়ির হেলপার থেকে পৌরসভার সার্ভেয়ার, এখন ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’

অনলাইন ডেস্ক   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ০৯:২৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাড়ির হেলপার থেকে পৌরসভার সার্ভেয়ার, এখন ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’

আব্দুল মান্নান, কুষ্টিয়া পৌরসভার সার্ভেয়ার। কিন্তু তিনি জাল সনদে ২৪ বছর ধরে এই চাকরি করছেন বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, এর মধ্যে তাঁকে অন্য কোনো পৌরসভায়ও বদলি করা হয়নি বলে অভিযোগ আছে, যা তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মৃণাল কান্তি দে’কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এই নির্দেশ দেন।

এর আগে মান্নানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মান্নান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। শুরুতে পৌরসভার ময়লাবাহী গাড়ির হেলপার ছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে সার্ভেয়ার সনদ কিনে সার্ভেয়ার হিসেবে যোগ দেন। এর পরপরই তিনি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’-এ পরিণত হন। শূন্য হাতে চাকরিতে যোগ দিলেও এই মুহূর্তে থাকছেন বিলাসবহুল বাড়িতে, চড়ছেন গাড়িতে। নিজ এলাকায় শত বিঘা জমি কিনে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। স্ত্রী আর শাশুড়ির নামেও করেছেন অনেক সম্পদ।

অভিযোগ আছে, পৌর শহরের মংগলবাগিয়া বাজার, হাউজিংসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। যাঁরা টাকা দিচ্ছেন শুধু তাঁদের স্থাপনা ঠিক রেখে নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু যাঁরা টাকা দিচ্ছেন না তাঁদের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছেন মান্নান। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সম্পদবিবরণীতে ৫২ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় মান্নানের স্ত্রী রূপালী খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর পর থেকে মান্নান ও তাঁর স্ত্রী আত্মগোপনে আছেন।

অভিযুক্ত মান্নান দাবি করেন, ‘দি ইস্টার্ন মর্ডান সার্ভে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ হালিশহর, চট্টগ্রাম থেকে আমি সার্ভে কোর্স সম্পন্ন করেছি।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌর মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ‘যে অন্যায় করবে তার শাস্তি তাকেই ভোগ করতে হবে।’



সাতদিনের সেরা