kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গ্রামটি এখন 'নরক', শিশুদের স্কুলে যেতেও বাধা!

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৪ অক্টোবর, ২০২১ ১৮:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রামটি এখন 'নরক', শিশুদের স্কুলে যেতেও বাধা!

কালিকাপুর গ্রামটিতে হত্যা, লুট, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়ে আসছে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের চাঁনপুর ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ে এ গ্রামটি অবস্থিত। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের সংঘর্ষে বছরের পুরোটা সময়জুড়ে এখানে অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রায়ই সংবাদপত্রে শিরোনাম হতে দেখা যায়।

জানা গেছে, চাঁনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নাসির মিয়ার দ্বন্দ্বে সর্বশেষ গ্রামটিতে এক স্কুলছাত্রী টেঁটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায়। প্রতিপক্ষের হাতে প্রায়ই শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। করোনার দীর্ঘ বিরতির পর খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, যুবলীগ নেতা নাসির অনুসারীদের নির্যাতন ও বাধায় কালিকাপুর গ্রামের অনেক শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে চিন্তিত অবিভাবক ও শিক্ষকরা।

গত এক সপ্তাহ আগে নাসির অনুসারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার কালিকাপুর প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পারভেজ বলে, স্কুলে গেলে প্রতিপক্ষের লোকেরা চড়-থাপ্পড় দেয়। তাদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছি না।

সদাগরকান্দি হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সৌরভ বলে, তার পরিবার আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল সমর্থিত হওয়ার কারণে স্কুলে যাওয়ার সময় পথে প্রতিপক্ষের বাধা ও কটু কথা শুনতে হয়। নিরাপদে স্কুলে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানায় দুজন শিক্ষার্থী।

কালিকাপুর সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক লায়লী বেগম ও সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান আবুল হাশেম বলেন, স্কুলে আসতে বাধা ও নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পাননি তারা। অভিযোগ পেলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল সমর্থিত পরিবারগুলোর অর্ধশত শিশুর বেশির ভাগই প্রতিপক্ষের নির্যাতনের ভয়ে স্কুলের যেতে পারছে না। বিগত দিনে যুবলীগ নেতা নাসির অনুসারীরা হামলা চালিয়ে অনেক ঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র, পানির টিউবয়েল, বৈদ্যুতিক মিটার লুট করে নিয়ে গেছে। তাই তো বাড়িতেও শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নেই। এখানকার শতকরা ৯০ ভাগ পরিবার কৃষি ও মৎস্য আহরণ পেশায় জড়িত। ঝগড়ার কারণে তাদের অনেকেই জমির ধান ও নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারেননি। এতে করে চরম অর্থ সংকটে থাকা পরিবারগুলো শিশুদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতে পারছেন না। দ্রুত দুই গ্রুপের বিরোধ নিষ্পত্তি চার গ্রামবাসী। যাতে করে শিশুরা নিরাপদে স্কুলে ফিরতে পারেন।

বৃদ্ধ নান্নু মিয়া বলেন, গত দুই মাস যাবৎ প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে কালিকাপুর বাজারে যেতে পারছেন না। অসুস্থ হলে মেঘনা পাড়ি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লালপুর বাজারে গিয়ে ওষুধ কিনতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা নাসিরের লোকেদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। এই অত্যাচার থেকে পরিত্রান চান তিনি।

চাঁনপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নাসির মিয়া বলেন, কালিকাপুর বাজারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। বাবুল অনুসারীরা অবাধে বাজারে ও তাদের সন্তানরা স্কুলে যাচ্ছে। নির্যাতন ও বাধা দেওয়ার অভিযোগটি অসত্য বলে জানান তিনি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা