kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

জীবিত সফিকুলকে মৃত্যুসনদ, চেয়ারম্যান-মেম্বারের নামে মামলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ   

১ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবিত সফিকুলকে মৃত্যুসনদ, চেয়ারম্যান-মেম্বারের নামে মামলা

অভিযুক্ত শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান আলাল উদ্দিন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সফিকুল ইসলাম (৬৩) নামের এক জীবিত ব্যক্তিকে প্রতারণা করে মৃত্যুসনদ তৈরি করায় চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার শিবালয় থানায় মামলাটি দায়ের করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সফিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগী সফিকুল উপজেলার নবগ্রাম এলাকার মৃত আর্শেদ আলীর ছেলে।

মামলার আসামিরা হলেন, শিবালয় মডেল ইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন (৩৯), ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৮নম্বর ওর্য়াডের মেম্বার আব্দুর রউফ খান (৬০) এবং ৭, ৮ ও ৯নম্বর ওর্য়াডের নারী মেম্বার শারমিন বেগম।

মামলা সূত্রে জানান গেছে, সফিকুল ২৭ সেপ্টেম্বর শিবালয় উপজেলার সমাজ সেবা অফিসে ঋণ তোলার জন্য যান। এ সময় কাগজ-পত্র দেখে সংশ্লিষ্ট অফিসার জানায় এই নামের ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রমাণ হিসাবে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান আলাল উদ্দিনের স্বাক্ষরিত মৃত্যুসদন দেখানো হয়।

পরে বিষয়টি মেম্বার চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তারা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে লাশ গুম করবে বলে কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ আছে।

সফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, নারী মেম্বার আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এ ছাড়ার তিনি মহিলা মেম্বার হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান ও রউফ মেম্বারের যোগসাজে বিভিন্ন সময়ে হুমকি প্রদান করে আসছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গণ্যমান্য বক্তিরা বসেও সমাধান করতে পারেননি। পরে যানতে পারি গত বছরের ২৬ মে আমি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছি।

শিবালয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পলাশ হুসাইন জানান, সফিকুলের নামে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড ছিল। পরর্বতিতে যাচাই বাছাই করে তার বিধি মোতাবেক বয়স কম হওয়ার কারণে তার সুবিধাভোগী কার্ডটি বাতিল করা হয়। তবে তার মৃত্যুর সনদটি কিভাবে অফিসে আসল বিষয়টি তিনি অবগত না বলে জানান।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানার সাথে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বিষয়টি অবগত নন বলে জানান। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ কবির জানান, সফিকুল নামের এক ব্যক্তি তার জীবিত অবস্থায় চেয়ারম্যান মেম্বারে যোগসাজে মৃত্যুসনদ দিয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কারো কাছে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওযায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 



সাতদিনের সেরা