kalerkantho

শুক্রবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩ ডিসেম্বর ২০২১। ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

৭৫ বয়সী পায়ে ঘোরে সংসারের চাকা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া    

১ অক্টোবর, ২০২১ ০৪:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭৫ বয়সী পায়ে ঘোরে সংসারের চাকা

পায়ে হেঁটেই পাল্লা দেওয়া যাচ্ছিল চলন্ত রিকশার সঙ্গে! কখনো কখনো পায়ের গতিই যেন বেশি। মাথা নুয়ে চালাতে থাকা চালকের বয়স যে ৭৫। হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে প্যাডেল চেপেই চালাচ্ছেন রিকশা। যান্ত্রিক এ যুগে অটোরিকশার দাপটে এমন দৃশ্য মেলা ভার।

চালক জানালেন নাম মো. এলাছ মিয়া। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসেও ‘পা’ তাঁর ভরসা। মেশিনের কারিশমায় নয়, পায়ের চাপে চলে তার রিকশা। জীবিকা নির্বাহে এলাছ মিয়া প্রায় ৪৫ বছর ধরে রিকশা চালান। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ও নিজেকে সুস্থ রাখতে তিনি এ পেশাকে আগলে রাখতে চান আমরণ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পুরাতন জেল রোডে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা মিলে এলাছ মিয়ার। প্রথমবার ছবি তোলার সময় খেয়াল করেননি। ‘ও চাচা ও চাচা’ মৃদু কণ্ঠের ডাকও পৌঁছাচ্ছিলোও তাঁর কানে। বাধ্য হয়েই একটু জোরে ডাকা। রিকশা থামানোর অনুরোধ করতেই এক সেকেন্ডও দেরি করেননি ব্রেক কষতে।

এলাছ মিয়ার গ্রামের বাড়ি জেলার সরাইল উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। তবে বহু বছর ধরে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডায় (সিইও অফিস সংলগ্ন)। স্ত্রী, ছেলে, নাতি নাতিনসহ মোট সাতজনের পরিবার এলাছ মিয়ার।

কথা হলে এলাছ মিয়া জানান, তার প্রতিদিনের আয় গড়ে ৪০০ টাকা। দুবেলা তিনি রিকশা চালান। তবে বয়সের ভারে এখন আর যাত্রী পরিবহন করেন না। সকালে মাছ পরিবহন ও দুপুরে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে দোকানে পৌঁছে দিয়ে এ আয় করেন তিনি।

ছেলে মাসুদ অটোরিকশা চালিয়ে আয় থেকে বাড়ি ভাড়ার চার হাজার টাকা দেন। এলাছ মিয়া সংসারের বাকি ব্যয় নির্বাহ করেন। ছেলে মাসুদ ওমান থেকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়ায় আর্থিক টানাপোড়েন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সংসারে। মাসুদের তিন সন্তানসহ এখন পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাত। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।

এলাছ মিয়া বলেন, ‘বাফের কিছু জমি আছল। হেন তেইক্কা বেইচ্চা ও বাগী দিয়া আমার পুলা মাসুদরে ওমান পাডাইছলাম। দেড় মাস পরে হেরে ওমান তেইক্কা পাডাই দিছে। পাচ লাক টেহার মত মাইর খাইছি। হেই টেহাডার লাইগ্গা অহন বহুত কস্ট। কদিন আগে বহুত কষ্ট কইরা একটা জমি ছুডাইছি।’

এলাছ মিয়া জানান, বয়সের কারণে যাত্রী পরিবহনে কিছুটা কষ্ট হয়। যে কারণে তিনি এখন সকালে মাছ পরিবহন ও দুপুরে খাবার পরিবহন করেন। সকালে আনন্দ বাজার থেকে মাছ নিয়ে মেড্ডা বাজার পৌঁছে দিয়ে ৮০ টাকা আয় করেন। মেড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে বিভিন্ন মার্কেটের দোকানিদের কাছে পৌঁছে দিয়ে ৩৩০ টাকা আয় করেন। তবে মার্কেটের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আয় অনেকটা কমে আসে। সুস্থ থাকলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে যেতে চান বলে জানান এলাছ মিয়া।



সাতদিনের সেরা