kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বজ্রপাত থেকে বিদ্যুতের তারে আগুন, পুড়ল ২ গরুসহ ৫ বসতঘর

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি    

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৮:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বজ্রপাত থেকে বিদ্যুতের তারে আগুন, পুড়ল ২ গরুসহ ৫ বসতঘর

কুমিল্লার লাকসামে বজ্রপাতে দুই গরুসহ পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে ভুক্তভোগীদের।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা ও ভাকড্ডা গ্রামে বজ্রপাতের ফলে অগ্নিকাণ্ডে এ ঘটনা ঘটে।

অশ্বতলা গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘন ঘন বজ্রপাত শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে মুষলধারে বৃষ্টি। বজ্রপাতের একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক তারে আগুন ধরে যায়। এ সময় ওই গ্রামের আমির আলীর মেয়ে হাজেরা বেগমের বসতঘরে আগুন ধরে যায়। নিমেষেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পাশের সকিনা বেগমের বসতঘরসহ আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা লোকজন জেগে উঠে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন বেরিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।

খবর পেয়ে লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এরই মধ্যে দুই পরিবারের পাঁচটি ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারা পরনের জামা-কাপড় ছাড়া কোনো কিছুই বের করতে পারেননি।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে ওই বাড়ির আবদুল মজিদের ঘের থাকা নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা, দুটি পাসপোর্ট এবং অন্তত ১৫ লাখ টাকার আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া লতিফা বেগমের পাঁচ লাখ, সখিনা বেগমের চার লাখ ও হাজেরা বেগম ঘরে থাকা নগদ টাকা, ধান, চাল ও আসবাপত্রসহ চার লাখ টাকার ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।

অপরদিকে, একই রাত সোয়া ৩টার দিকে বজ্রপাতে একই ইউনিয়নের ভাকড্ডা গ্রামের কৃষক মমতাজ মিয়ার দুটি গরু মারা গেছে।

লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, 'আমরা রাত ৪টা ৫ মিনিটে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশন কর্মকর্তা  ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তবে এর আগের আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে যায়।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম সাইফুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দেবেশ চন্দ্র দাস ও কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা