kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বৃদ্ধ ফজিলা বেগমও জানেন ‘টিহা দেলে করুনা অয় না’

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃদ্ধ ফজিলা বেগমও জানেন ‘টিহা দেলে করুনা অয় না’

হুনছি টিহা (টিকা) দেলে করুনা অয়না। টিকা না দেলে কোনো হানে যাওয়াও যায় না। হের লইগ্যা টিহা দেতে আইছি। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৮টার সময় কেন্দ্রে এসে করোনার টিকার জন্য অপেক্ষারত বৃদ্ধ ফজিলা বেগম (৬৫) বলছিলেন এই কথাগুলো। একাই কেন্দ্রে এসেছেন সচেতন এই নারী। এক আত্মীয়রে মাধ্যমে তিনি টিকার নিবন্ধন করিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার সময় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ টিকা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তখনও তিনি টিকার সিরিয়াল পাননি।

সারা দেশের গণটিকার অংশ হিসেবে শরণখোলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে করোনা টিকা কার্যক্রম। উপজেলার মোট ছয় হাজার জনকে এই টিকার আওতায় আনা হয়। কিন্তু সুরক্ষা ডটকমের সার্ভার ত্রুটি এবং বৈরী আবহাওয়ায় অনেকটা ঝক্কি পোহাতে হয় কর্মীদের। এতে আট কেন্দ্রের কোথাও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক আবার দু-একটি কেন্দ্রে লক্ষামাত্রার চেয়ে বেশিও পূরণ হয়েছে। এতে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্রে মোট চার হাজার ৪৯১ জন নারী-পুরুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আট কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে টিকার সংখ্যা কম হয়েছে সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী প্রদীপন সাইক্লোন শেল্টার কেন্দ্রে। ৭৫০জনের লক্ষ্যমাত্রায় সেখানে হয়েছে মাত্র ২২১ জন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ধানসাগর ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে ১৫০০ জনের লক্ষামাত্রা থাকলেও সেখানে হয়েছে ২১৮০ জন।

খুড়িয়াখালী কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী হাওয়া খানম জানান, বৃষ্টির কারণে মানুষ কেন্দ্রে আসতে পারেনি।

ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রের আসালাম হোসেন জানান, তাদের দুই কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় ছিল। লোকরে চাপে নির্ধারিত সময়ের (বিকেল ৪টা) চেয়েও প্রায় দুই ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে।

খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ টিকা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী মো. তুষার মুন্সি, তাফালবাড়ী কেন্দ্রের রাসেল শরীফ জানান, সার্ভারত্রুটির কারণে তাদের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে সকল কেন্দ্রে তথ্য এসে পৌঁছায়নি। অনেক কেন্দ্রে এখনো টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। টিকার কোনো সংকট নেই। রাতের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করা হবে। নিবন্ধিত যারা এখনো বাকি রয়েছে তাদেরকে ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেকে এনে টিকা দেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা