kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কাকশিয়ালী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কাকশিয়ালী

ছবি: সংগৃহীত

দখল আর দূষণে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে কাকশিয়ালী নদীর ঐতিহ্য। এক সময় নদীতে দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে লঞ্চ ও মালবাহী কার্গো আসতো। নদীতে সবসময় শোভা পেতো পাল তোলা নৌকা। নদীর পানির কুল কুল ধ্বনিতে মুখরিত থাকতো এ অঞ্চল। তবে অতিদুঃখের বিষয়, নদীতে এখন আর আগের মতো স্রোত নেই। নদীকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করতেন সাধারণ মানুষ। কিছুকাল আগেও এই নদীতে ছিল দু’কুল ছাপানো ঢেউ। আজ সেসব কথা যেন শুধুই স্মৃতি। পলি জমে নদীর তলদেশ ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া নদীর দুপাশ দিয়ে বিভিন্ন কলকারখানা, ইটের ভাটা, বিভিন্ন বাজারের ময়লা-আবর্জনা, অসংখ্য ভাসমান টয়লেট আর স্থানীয় ভূমিদস্যুরা নদীর দুপাশ ভরাট করায় এর প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে। আর সুযোগে দখলদাররা গিলে খাচ্ছে নদীটিকে।

বিভিন্ন সূত্র ও ইউকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, কাকশিয়ালী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অন্যতম নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৮০ মিটার, এটি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক কাকশিয়ালী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী।

কাকশিয়ালী নদীটি জেলার আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নে প্রবহমান সাপমারা-হাবড়া নদী (খুটিকখালি) থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে এ নদীর জলধারা কালিগঞ্জের বড়শিমলা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইছামতি-কালিন্দি নদীতে পতিত হয়েছে।

কালিন্দীকে কলাগাছিয়ার সাথে যোগ করার আগে কালিগঞ্জের যমুনা থেকে একটি খাল কেটে পূর্ব দিকে উজিরপুরের নিকটে গলঘেসিয়ার সাথে যুক্ত করা হয়। বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম ককশাল এই খাল খনন করেন। ককশাল সাহেবের নামানুসারে খালটি কাঁকশিয়ালী নদী নামে পরিচিত লাভ করে।

যমুনা বাঁচাও আন্দোলনের কালিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম বলেন, একসময় কাকশিয়ালী নদীর ভরা যৌবন ছিলো। এককালের প্রমত্তা কাকশিয়ালী নদী দূষণ আর দখলের কারণে নাব্যতা হারিয়েছে। নদীর দু’পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটের ভাটা, প্রভাবশালীরা নদীর চর দখল করে মৎস্যঘের তৈরি করেছেন। এছাড়া নদীর চর দখল করে অসংখ্য বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদী লুটে খাচ্ছে দখলদাররা।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় শফিউল্লাহ, আব্দুর রহমান, মামুন হোসেন, রেজাউল ইসলাম, ওমর ফারুকসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কাকশিয়ালী নদী দিন দিন মরে যাচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে নদীর অস্তিত্ব এক সময় হারিয়ে যাবে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ভূমিদস্যু নদী দখলের উৎসবে মেতে উঠেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই নদী দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়। অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কালিগঞ্জে নদী ও খাল দখল করে যেসব প্রতিষ্ঠান বা বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোকে তালিকা করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যারের অনুমতি পেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা