kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরণখোলায় আরো একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করল পুলিশ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শরণখোলায় আরো একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করল পুলিশ

কিশোরীর বয়স মাত্র ১৪ বছর। এবার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে সে। এক-দেড় মাস আগে একই গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে কাজীর মাধ্যমে সরা কাবিন করা হয় তার। আজ সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ছিল সেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পুলিশ এই খবর টের পেয়ে বাঁধ সাধে বিয়েতে। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ওই বাড়িতে গিয়ে বন্ধ করে দেয় বাল্যবিবাহটি।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনঘেঁষা বগী গ্রামে চলছিল এই বিয়ের আয়োজন। মেয়েটি স্থানীয় সুন্দরবন ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ছাত্রী। দরিদ্র বাবা বলেশ্বর নদে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করেন। অভাবের সংসার তাই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চেয়েছিলেন বলে জানায় এলাকাবাসী।

এর আগে গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলাকালে উপজেলা প্রশাসন গিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রিয়াদুল পঞ্চায়তে জানান, একই গ্রামের মতিয়ার মল্লিকের ছেলে ফারুক মল্লিকের (২২) সাথে ওই কিশোরির বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। সন্ধ্যার পরে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। পরে এখবর জানতে পেরে পুলিশের মাধ্যমে বিয়েটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত আরো জানান, মেয়েটির আরেকটি জমজ বোন আছে। বছরখানেক আগে তারও বিয়ে হয়েছিল। কিন্ত বেশিদিন টেকেনি। ছেলের আগের স্ত্রী আছে। সেই স্ত্রীর কথা গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল ওই মেয়েকে। পরে জানতে পেয়ে কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেই বোনেরও ছাড়ছাড়ি হয়ে যায়। সেও ওই একই মাদরাসায় একই ক্লাসে পড়তো।

তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিয়ের আয়োজন চলছে। বরপক্ষ তখন এসে পৌঁছায়নি। পুলিশের টের পেয়ে মেয়ের বাবাও পালিয়ে যায়। এক-দেড়মাস মাস আগে কাজীর মাধ্যমে সরা কাবিন হয় ছেলে-মেয়ের।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, বাল্যবিবাহের গোপন সংবাদ পেয়ে তাফালবাড়ী ফাঁড়ির পুলিশ পাঠিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে পরিবার।



সাতদিনের সেরা