kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনা টিকা না নিয়েই মিলছে সনদ!

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা টিকা না নিয়েই মিলছে সনদ!

অনিয়ম আর অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে পার্বতীপুরে কভিড-১৯ টিকা প্রদান কার্যক্রম। প্রথমম ডোজ ও দ্বিতীয়য় ডোজ কোনটিই পাননি এমন মানুষও পেয়ে গেছেন টিকা সনদ। এমন অভিযোগ করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর আলী ও সংগঠনের আরো দুই সদস্য।

ওমর আলী দাবি করেন,  বীরেন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী অর্চনা রানী সরকার। তার বাড়ি উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের উত্তর রসুলপুর ভীমতিয়া গ্রামে। অর্চনা রানী সরকার করোনা টিকার কোনো ডোজ না নিয়েই ২২ সেপ্টেম্বর টিকা সনদ পেয়েছেন।

অর্চনা রানী সরকারের ছেলে সাগর সরকার (২২) কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শুধু আমার মা নয়, আরো অনেকে রেজিস্ট্রেশন করে এসএমএস পাননি। একাধিক বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে এসএমএস এর ব্যবস্থা করে টিকা নিয়েছেন।

কভিড-১৯ টিকা প্রদান সম্পর্কিত তথ্যে জানা যায়, অর্চনা রানীর প্রথম ডোজ টিকা পাওয়ার তারিখ ছিল ৭ আগস্ট। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানের তারিখ ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। দুটি ডোজের কোনটিই তিনি গ্রহন করেননি। তবে ২২ সেপ্টম্বর বিকেলে টিকা গ্রহনের সনদ উত্তোলনের জন্য তাকে এসএমএস করা হয়। ওই দিনেই সনদপত্র উত্তোলন করা হয়েছে বলে সাগর সরকার জানিয়েছেন।

মো. আসাদুজ্জ্বামান (৩০) নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, টিকা নিয়ে মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। টাকা নিয়ে এসএমএস প্রাপ্তির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে গিয়ে কথা হয় টিএইচএ আব্দুল্লাহ আল মাফির সাথে। তিনি বলেন, পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জুলাই সিনোফামের্র ৩৩ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা আসে। এর আগে, ৪ ফেব্রুয়ারি ২৫ হাজার ২৫০ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা আসে। এসব টিকা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে সিনোফার্মের ১০ হাজার ডোজ টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. সেলিম বলেন, উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আট হাজার গণটিকা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় অনেকের রেজিস্ট্রেশন করা হলেও তারা টিকা পাননি। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদানের তারিখও শেষ হয়ে গেছে। তাই এসব ব্যক্তি অটো সনদপত্র পেয়েছেন।

যারা এখনো এসএমএস পাননি তারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এলে এসএমএস দেওয়ার পর তাদের প্রত্যেককে টিকা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

সেলিম আরো বলেন, উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৪ জন। শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৯ জন। বর্তমানে ১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী নিজেদের অবস্থানে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাফি বলেন, ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সাপেক্ষে এসএমএস প্রদান করা হয়। এসএমএস প্রদানের জন্যে টাকা-পয়সা নেওয়া অথবা সনদ বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।



সাতদিনের সেরা