kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শ্রীবরদীর নীরব করোনাযোদ্ধা 'নাফিউল মাস্টার'

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীবরদীর নীরব করোনাযোদ্ধা 'নাফিউল মাস্টার'

টিকা কার্ড দিচ্ছেন মোহাম্মদ নাফিউল ইসলাম

করোনার নীরব যোদ্ধা মোহাম্মদ নাফিউল ইসলাম। তিনি এলাকায় 'বিএসসি নাফিউল' বা 'নাফিউল মাস্টার' নামেই পরিচিত। করোনা মহামারির শুরু থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নিজের খরচে রেজিস্ট্রেশন করে পৌঁছে দিচ্ছেন টিকার কার্ড। যারা এখনো টিকা গ্রহণ করেননি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর এ কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এলাকায়। শ্রীবরদীতে সর্বস্তরে আলোচনায় এসেছেন এই নীরব করোনাযোদ্ধা নাফিউল মাস্টার। অনেকে বলছেন, তিনি মানবিক কাজ করেছেন। দুর্যোগময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সহায়তাকারী মোহাম্মদ নাফিউল ইসলাম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের মামদামারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভেলুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে কথা বলে উঠে আসে এসব তথ্য। 

মোহাম্মদ নাফিউল ইসলাম (বিএসসি) জানান, তিনি করোনার মহামারির শুরু থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের মামদামারি, আবুয়ারপাড়া ও ধামাহাটাসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি টিকা প্রদানের শুরু থেকে তিনি এলাকার লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করছেন টিকা গ্রহণের। তিনি প্রতিনিয়ত যাচ্ছেন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকসহ সাধারণ লোকজনের বাড়ি বাড়ি। সংগ্রহ করছেন জাতীয় পরিচয়পত্র। টিকা গ্রহণের জন্যে নিজ খরচে নিবন্ধন করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন টিকার কার্ড। 

তিনি বলেন, আমি ভালোবাসি মাকে। ভালবাসি গ্রামের মানুষ ও দেশকে। সেই অনুভূতি থেকেই এই মানবিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে এলাকার ৬০ ভাগ মানুষ টিকা গ্রহণ করেছে। আমি তাদের তালিকা তৈরি করেছি। অনেকে দ্বিতীয় ডোজও নিয়েছেন। এসব টিকার কার্ড প্রিন্ট করে সবার হাতে পৌঁছে দিচ্ছি। এমনকি টিকা গ্রহণকারীদের একটি তালিকা করেছি। যাতে যারা এখনো টিকা নিতে পারেনি তাদেরকে শনাক্ত করা সহজ হয়। তিনি আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তার এ কাজে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন মামদামারি গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. ফরিদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝিয়ে তাদেরকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করছেন। নিজের খরচে তাদের টিকা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য আমরা মনে করি তিনি একজন করোনার নীরব যোদ্ধা। 

একই গ্রামের বাসিন্দা টিকা গ্রহণকারী মাহবুবুল আলম দুলাল (বিএসসি) ও হাফেজ শহিদুল্লাহ ও মো. রাজন খানসহ অনেকে বলেন, আমাদের মতো মামদামারি, আবুয়ারপাড়া, ধামাহাটাসহ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিনি টিকা গ্রহণের নিবন্ধনের কাজ করে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছেন। তার এ কাজকে দেখে আরো অনেকে এগিয়ে এসেছেন বলে জানান শ্রীবরদী উপজেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, তিনি টিকা গ্রহণের শুরু থেকে সাধারণ মানুষের রেজিস্ট্রেশন করে যাচ্ছেন। এসব রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিজ খরছে প্রিন্ট করে হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে টিকা প্রদানে আমাদেরও সহজ হচ্ছে। তার মতো আরো অনেকে এগিয়ে এলে দেশের মানুষ সহজেই যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারবে। নাফিউল ইসলামের মানবিক এ কাজে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। 
 



সাতদিনের সেরা