kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাদরাসাছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য দুই লাখ টাকা!

বেনাপোল প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাদরাসাছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য দুই লাখ টাকা!

যশোরের শার্শার পল্লীতে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার উপজেলার হরিনাপোতা গ্রামে। পরে গ্রাম্য সালিসি বৈঠকে টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী বলছে, মাদরাসাছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য দুই লাখ টাকা। ঘটনাটি নাভারণ সার্কেলের এএসপিকে অবগত করানো হলেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে জানা যায়, শার্শা উপজেলার হরিনাপোতা গ্রামে মকবুল ইসলামের বাড়িতে একটি অবৈধ আবাসিক মহিলা হেফজ মাদরাসা রয়েছে। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরিব ছাত্রীরা এসে পড়াশুনা করে। কিন্তু মাদরাসার সাথেই বাড়িতে মকবুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বসবাস করেন এবং সামনে রয়েছে তার একটি গ্রাম্য ডাক্তারখানা। যে কারণে মনিরুলের সাথে ছাত্রীদের দেখা-সাক্ষাত হয় সব সময়। সে সুবাদে শুক্রবার বিকেলের দিকে মাদরাসার এক ছাত্রীকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানিসহ ধর্ষণচেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে তার বান্ধবীরা এসে পড়ার তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন মনিরুল। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে ফোন করে তার মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায়। ঘটনা শোনার পর তার মা সন্ধ্যায় মনিরুলের বাড়িতে যান এবং কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মনিরুলকে জুতাপেটা করে লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন।

এলাকাবাসী জানায়, মনিরুল একটি ভদ্র ঘরের সন্তান হলেও সে লম্পট প্রকৃতির ছেলে। এমন ঘটনা এর আগেও কয়েকবার সে মাদরাসাছাত্রীদের সাথে ঘটিয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে তারা কোথাও মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এবারও যদি টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যায় তাহলে আবারও সে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে।

এলাকাবাসী আরো জানান, ঘটনার একদিন পর শনিবার সকালে হরিনাপোতা গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মোস্তাক হোসেন, শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মাদ আলী, ইমান আলী ও সান্টু ছাত্রীটির চাচা জুব্বার আলীর সাথে রাতের আঁধারে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নগদ দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা কথা প্রচার করে বেড়াচ্ছে। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম খান জানান, বিষয়টি এএসপি সার্কেল স্যার জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি কেউ স্বীকার করেনি। থানায়ও কেউ অভিযোগ দেয়নি। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা