kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৮:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাদের মির্জার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অভিযোগ

নোয়াখালীর আলোচিত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ওই জায়গাটি পৌরসভার পৌর পার্কের জন্য বরাদ্দকৃত বলে দাবী করে এ উচ্ছেদ চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসুরহাট পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের ৮নং করালিয়া মৌজার ১৭৯ নং খতিয়ানের ১দশমিক৫৭ একর ভূমির হুমায়ন টিম্বার মার্সেন্ট এন্ড সমিলে এ উচ্ছেদ চালানো হয়।

ওই জায়গার দাবীদার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলন জানান, আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার ৮নং করালিয়া জিলা জরিপের ১৭৯নং ও এম আর আর ১৩৩/২ নং খতিয়ানের ৫৫৮ দাগ ১ আনা ৮৭ ডিং আন্দরে দাগের দক্ষিণ পশ্চিমাংশে ১৭ডিং ভূমিতে গত ২৫ মার্চ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা জজ আদালত। আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, আপত্তি দাখিল ও শুনানি পর্যন্ত বিবাদী পক্ষ যাহাতে তফসিল ভূমিতে প্রবেশ করতে না পারে কিংবা কোন প্রকার বন্দোবস্ত প্রদান করতে কিংবা বাদী পক্ষের দখলে কোন প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে সেই মর্মে বিবাদী পক্ষের অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ ধারা রহিত করা গেল।

তিনি আরো জানান, ১৯৯০ সালে আমরা চার ভাই ১৭৯নং দাগে মোট ১৭ডিং জায়গা বদরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১১জনের নিকট থেকে ক্রয় করি। এরপর ওই জায়গার উত্তর অংশে সাহাব উদ্দিন ও দক্ষিণ অংশে রহমত উল্যাহ ৪ডিং জায়গা ক্রয় করে। বাকী জায়গা দিয়ে ১৯৯৯ সালে বসুরহাট ইসলামী ব্যাংকে মর্টগেজ দিয়ে আমরা ৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করি। ১৭৯ দাগের যে বাকী ১০ডিং জায়গা রয়েছে তাতে কোন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। শুধু মাত্র আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১৭ডিং জায়গায় অবৈধ উচ্ছেদ চালান মেয়র কাদের মির্জা। তবে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের সাথে সরকারি কোন বিভাগের কোন কর্মকর্তা জড়িত নেই। শুধু মাত্র কাদের মির্জা একক ক্ষমতাবলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক অনুসারী নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পেশি শক্তি দিয়ে আমাদের জায়গা জবর দখল করে নেয়।

একই সাথে সমিল মেশিন,ফার্নিচার মেশিন, সেগুন কাঠ,টিন বড় ঘর দুটি ভেঙ্গে নিয়ে যায় সহ আনুমানিক ৫ কোটি টাকার মালামাল লুঠ করে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে কাদের মির্জা আধুনিক শিশু পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসিকে জানালে তারা কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি। তাই এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান ওই জায়গাটি পৌরসভার পৌর পার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত, তবে জায়গাটি সরকারি খাস জায়গা। এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ফিরোজ আলম মিলনের বড় ভাই ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরকে বসুরহাট পৌরসভার প্যাডে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই  চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনি সরকারি খাস সম্পত্তির ওপর বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। জনস্বার্থে উক্ত জায়গার ওপর বসুরহাট পৌরসভার শিশুপার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে আপনার বিধিবহির্ভূত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুনর্নির্দেশ দেওয়া হলো। এর আগে গত ২২ মার্চ একই বিষয়ে আরেকটি নোটিশ করা হয়। স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো.সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, এ বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। মেয়র জানিয়েছে এটা বসুরহাট পৌরসভার জায়গা আর প্রতিপক্ষ জানিয়েছে এটা তাদের জায়গা। প্রতিপক্ষ একটা স্টেঅর্ডার দেখিয়েছে। এটা মেয়রকে জানিয়েছি। উনি বিষয়টা দেখতেছে বলছেন।

এ বিষয়ে জানতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জিয়াউল হক মীরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান,উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছে। আমি তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলতে বলেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আপনাকে একটা প্রতিকার দিবে। সরকারি জায়গা হলে এটা আমরা দেখবো, বেসরকারী জায়গা হলে উনি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ করবে। ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে বলেছি কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র জমা দিলে যাচাই বাচাই করে বুঝা যাবে প্রকৃত মালিকানা কার।



সাতদিনের সেরা