kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভ প্রচার, এলাকায় তোলপাড়!

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভ প্রচার, এলাকায় তোলপাড়!

ছাতকে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভ প্রচারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। খোদ ওসির কক্ষে ধারণ করা এই ভিডিও পরবর্তীতে ছাতক টু সুনামগঞ্জ নামক একটি ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভ করা হয়। আপলোড দেওয়ার পর মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে 'ছাতক টু সুনামগঞ্জ' নামক ফেসবুকভিত্তিক কথিত একটি নিউজ পেজে লাইভটি প্রচারের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখেন। ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা শুনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য দোষীরা পালিয়ে যাবে। এটা পুলিশের খামখেয়ালিপনা বলে লাইভ চলাকালে অনেকেই মন্তব্য করেন।

খোদ পুলিশের মোবাইলে ধারণ করা গোপনীয় এই ভিডিও কিভাবে কথিত এই পেজে চলে গেল তা নিয়ে সচেতন মহলে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। পরবর্তীতে প্রায় এক ঘণ্টা পর ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। কিন্তু এ প্রতিবেদকের কাছে স্কিন রেকর্ডার দিয়ে লাইভ চলাকালীন ওই ভিডিওটি সংরক্ষিত আছে।

ভিডিওতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিসহ ছাতক থানার ওসি নাজিমউদ্দিন, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়।

এদিকে সারা দেশে ভূইফোড় এসব ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও উদ্ভট নাম ব্যবহার করে চলা এই পেজে প্রায় সময় ছাতক থানার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রচার করতে দেখা যায়। এনিয়ে নানান সময় ছাতক থানা পুলিশ সমালোচিত হলেও টনক নড়েনি তাদের।

এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমি অবগত ছিলাম না, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

ছাতক থানার ওসি নাজিম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এগুলো করিনি, পরে অন্য কেউ হয়তো করেছে। ফেসবুক লাইভ প্রচার করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রমে জড়িত পুলিশ কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম নিরপেক্ষ রাখতে আরো সতর্ক থাকা উচিৎ  ছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে আখলাকুর রহমান ওরফে আখলাদ (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে পালিয়ে যায়।

রাতেই গ্রামের মাঠের ক্ষেতের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আখলাদ গোবিন্দগঞ্জ -সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামের জাহির আলীর ছেলে ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে একই ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সোহাগ ও বিশ্বনাথ উপজেলার  দিঘলী-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে আলীম উদ্দিনকে নিজ বাড়ি থেকে গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আসামিরা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।



সাতদিনের সেরা