kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিক্ষার্থীদের দুই বছরের বেতন ২৩ লাখ, মওকুফ করে দিল বিদ্যালয়!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের দুই বছরের বেতন ২৩ লাখ, মওকুফ করে দিল বিদ্যালয়!

করোনাকালীন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনা বেতনে অধ্যয়নে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃহস্পতিবার ফরম বিতরণ শুরু করলে বিদ্যালয়ের ১১০০ শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই সংগ্রহ করেন। ফলে ওই শিক্ষার্থীদের বেতন দিয়ে দিবেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বেতন মওকুফের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা খুশি। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকরা এর প্রশংসা করেছেন। এলাকায়ও বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদেরকে ২০২১ ও ২০২২ সালের বেতন মওকুফ করা হয়েছে। এ জন্য পরিচালনা কমিটিকে চলতি বছরের জন্য দশ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও আগামী বছরের জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। ফলে শিক্ষকদের বেতনসহ অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য ব্যয় করতে কোনো ধরণের সমস্যা হবে না। তবে ওই দুই বছর শিক্ষার্থীদেরকে সেশন ও পরীক্ষারসহ অন্যান্য ফি জমা দিতে হবে।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাইজুল ইসলাম জানান, করোনার সময়ে তার বাবার কোনো কাজ না থাকায় বিদ্যালয়ের বেতন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এখন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বেতন মওকুফ করায় সে চিন্তা দূর হয়েছে। এ জন্য তাইজুল সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের মত অনেক পরিবার আছে যারা বেতনের টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয়। টাকার অভাবে অনেকে পড়ালেখাও বন্ধ করে দেয়। এখন যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে অনেকে পড়ালেখার জন্যও এগিয়ে আসবে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১১০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। আগামী বছর ১৪০০ শিক্ষার্থী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বেতন মওকুফের উদ্যোগটা নিয়েছেন। বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য ফরম দেয়া হলে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীই সেটা সংগ্রহ করে। যে কারণে সব শিক্ষার্থীর বেতনের টাকাই পরিচালনা কমিটিকে নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অত্যন্ত খুশি। এটা নিসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দুই বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা করতে সেশন ফিসহ অন্যান্য ফি আদায় করে যে টাকা বাকি থাকবে সেটা কমিটি দিয়ে দিবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ হেদায়েত হোসেন মোর্শেদ জানান, পরিচালনা কমিটির নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছে গেলে বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ কারণেই তাদের বেতন মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা করতে যেন কোনো ধরণের সমস্যা না হয় সেজন্য টাকাটা পরিচালনা কমিটি দিয়ে দিবে।  



সাতদিনের সেরা