kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গভীর রাতে ধানক্ষেতে কান্নার শব্দ, গিয়ে দেখলেন ফুটফুটে নবজাতক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গভীর রাতে ধানক্ষেতে কান্নার শব্দ, গিয়ে দেখলেন ফুটফুটে নবজাতক

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৩টা। বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। তখনও জেগে রয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের আওকারীপাড়া এলাকার গৃহবধূ সুমিলা রানী। হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান পড়ে রয়েছে একটি টুকটুকে নবজাতক। ভয়ে কাছে না গিয়ে ডেকে তোলেন পাশের বাড়ির লাল মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগমকে। নাসিমা বেগম গিয়ে দেখতে পান নবজাতক শিশুটি তখনো কান্না করছে। গায়ে একটি জোঁক রক্ত শুষে খাচ্ছে। নাড়িও কাটা হয়নি। তিনি দ্রুত জোঁক ছাড়িয়ে, নাড়ি কেটে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। নিজ বাড়িতে নিয়ে শিশুটির সেবা যত্ন করে সুস্থ করে তোলেন। অজ্ঞাতনামা নবজাতকটি মেয়ে সন্তান। পরে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ক্যানু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। 

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের আওকারীপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের ধারণা দূরের কেউ সন্তান প্রসবের লজ্জা ঢাকতেই নবজাতকটিকে ওই স্থানে রেখে পালিয়ে গেছে। হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি নাসিমার কোলে। নার্সরা চিকিৎসা দিচ্ছেন। ওই ওয়ার্ডের উৎসুক প্রসূতি মায়েরা দেখছেন শিশুটিকে। কেউ কেউ আবার নিজেদের কাপড় চোপড় শিশুটিকে পড়ানোর জন্য দিচ্ছেন। কখনো হাসছে আবার কখনো কাঁদছে শিশুটি। নির্মল মায়াবী টুকটুকে শিশুটির মুখখানি দেখলেই মায়ার পড়ে যাচ্ছেন সবাই। শিশুটিকে দেখতে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী ও জেলা সামাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় হাসপাতালে ছুটে আসেন। 

নাসিমা বেগম বলেন, সুমিলা রানীদের গরুর অসুখ। তাই জেগে ছিলেন। হঠাৎ রাতে বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে গিয়ে নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কিন্তু ভয়ে তারা কাছে যাননি। পরে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। আমি গিয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নেই। নাড়ি কাটি এবং শিশুটির গা থেকে জোঁকটি ছাড়িয়ে দেই। বাড়িতে নিয়ে সারারাত সেবা যত্ন করি। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবার লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমার বাড়িতে আসেন। তারা শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে একজন সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্যসহ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করি। শিশুটির প্রতি আমার মায়া জন্মে গেছে। আমিই তাকে লালন পালন করতে চাই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি নবজাতকটি আমাদের এলাকার নয়। হয়তো দূরের কেউ ফেলে গেছে। 

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নবজাতকটির ওজন একটু কম। সুস্থ স্বাভাবিক নবজাতকের ওজন সর্বনিম্ন আড়াই কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু শিশুটির ওজন মাত্র ২ কেজি। এছাড়া শিশুটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ মাস আগেই প্রসব হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে। হালকা শ্বাসকষ্ট আছে। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশা করি তা শিগগিরই কেটে যাবে।  

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, শিশুটিকে খুব নাজুক অবস্থায় পাওয়া গেছে। যেই নারী শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন তারা জিম্মায় হাসপাতালের ভর্তি করে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনও কেউ শিশুর জন্মদাতা হিসেবে দাবি করেনি। শিশুটি সুস্থ হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।



সাতদিনের সেরা