kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দিপুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার, দেড় লাখ টাকা হলে ফিরবে চোখের আলো

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিপুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার, দেড় লাখ টাকা হলে ফিরবে চোখের আলো

দিপু রহমান।

যশোরের চৌগাছার ১৫ বছরের কিশোর দিপু রহমানের চোখের আলো নিভে যাচ্ছে। দিন দিন অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে দিপুর ভবিষ্যৎ। 

দিপুর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশন করতে দেড় লাখ টাকা লাগবে। অপারেশনের পর দিপু ফিরে পারে চোখের স্বাভাবিক আলো। কিন্তু দিনমজুর পিতার পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে মমতাময়ী মা সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন।

উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আয়ুব হোসেন ও মহিরন নেছার সন্তান দিপু রহমান (১৫)। পিতা অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেন। যা আয় হয় তাতে চলে সংসার। পাঁচ ছেলে মেয়ের মধ্যে দিপু রহমান সকলের ছোট। স্থানীয় নিয়ামতপুর দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সে। 

পিতা আয়ুব হোসেন জানান, ২০১৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তারা বুঝতে পারে যে দিপু চোখে ভালো দেখতে পায় না। মাদরাসার ব্লাক বোর্ডের লেখাও সে ঠিকমত দেখতে পারে না। এই অবস্থায় তিনি ছেলেকে নিয়ে ছুটে যান যশোর বকচরে চক্ষু হাসপাতালে। কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কোনো উন্নতি হয়নি দিপুর চোখে। এরপর যশোরের ডা. নাহিদ কামালের কাছে যান ছেলেকে নিয়ে। সেখানে চোখ পরীক্ষা নীরিক্ষা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে যাাওয়ার পরামর্শ দেন ওই ডাক্তার।

তিনি আরো জানান, বাড়িতে ফিরে তিনি ধার দেনা করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যান ঢাকাতে। ঢাকায় স্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করেন। পাঁচ সদস্যের ডাক্তাররা নানা পরীক্ষা করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানানো হয়। টাকা না থাকায় বাথ্য হয়ে তিনি দিপুকে নিয়ে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে পার হয়েছে প্রায় ৩ মাস। দিপুর চোখের অবস্থা আরো দিনদিন খারাপ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দিপুর মা মহিরন নেছার কাছে ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, 'আমার ছেলে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টাকার অভাবে অপারেশন করাতে পারছিনে। আমাদের সম্পদ থাকলে বিক্রি করে দিতাম। তাও নেই। কি করব তাও জানি না। শুধু এইটুকু বলি, বহুলোকের টাকাপয়সা আছে। আমার ছেলের জন্যি যদি কেউ সাহায্য করত তাহলে বুকভরে দোয়া করতাম।' পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ০১৭৭২৯০৯৭৬৮ এই নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে।

নিয়ামতপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি মেধাবী। চোখের সমস্যা নিয়ে অনেকদিন ধরে ভুগছে। ওরা খুব দরিদ্র। তবে দ্রুত কিছু আর্থিক সহযোগতা করার চেষ্টা করব।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মাদরাসার সুপারের সাথে কথা বলে ওই ছাত্রের খোঁজখবর নেব। 



সাতদিনের সেরা