kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য, বলিষ্ঠ রাজনীতিক ও শিক্ষানুরাগী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলতাফ হোসেনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর)। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহসভাপতি ও বন্দবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পারিবারিকভাবে দোয়া ও মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৩৬ সালের ২০ মে উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের খাজুরা বাজারে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আলতাফ হোসেনের জন্ম। পিতার নাম আব্দুল আজিজ উদ্দীন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় আলতাফ হোসেন। ১৯৫৪ সালে খাজুরা এমএনমিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন। এরপর খুলনা থেকে চর্চা শেষে খাজুরা বাজারে ডাক্তারি শুরু করেন। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে বাঘারপাড়ায় নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন আলতাফ হোসেন।

তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাড. রওশন আলী তাকেসহ সহযোগীদের আদালত থেকে জামিন করান। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে আলতাফ হোসেন ভারতের চাঁপাবাড়িয়া ক্যাম্পে মেডিক্যাল অফিসার ও প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দেশ স্বাধীনের পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বন্দবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সরকারি শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নাম প্রস্তাবকারী। খাজুরা মাখনবালা মাধ্যমিক বালিকা ও টিপিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খাজুরা কেন্দ্রীয় ঈদগাহের জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া কেকেআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

তৎকালীন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও ‘বন্দে মাতরম, ব্রিটিশ তুমি ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিজয় চন্দ্র রায়ের সাথে কিছুকিছু আদর্শগত মিলের কারণে এ আন্দোলনেও যোগ দেন আলতাফ হোসেন। ১৯৯৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বলিষ্ঠ এ রাজনৈতিক।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হামিদ লস্কার বলেন, আলতাফ আমার স্কুল বন্ধু ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ হাদিউজ্জামান, খান টিপু সুলতান ও তবিবার রহমান তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘১৯৭০সালে আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন ২ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু বাঘারপাড়ায় আসেন। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিবার বিশ্বাস, ডা. আলতাফ হোসেন ও ছদর উদ্দীনসহ সম্মিলনী ইন্সটিটিউশনের শিক্ষক মমিন উদ্দীন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতেন। রাজপথে তাদের সরব উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করতো।

আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে মাসুম রেজা খান বলেন, ‘আমার বাবা আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা হলেও মৃত্যুর পরে কেউ আমাদের খোঁজ রাখেনি। এমনকি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারিভাবে আজো তাঁর কবর পাকা করা হয়নি। পারিবারিকভাবে আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হলেও দলীয়ভাবে তাঁকে স্মরণ করা হয় না। মৃত্যুপথযাত্রী আমার মা প্রতিবছর এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ প্রয়াত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতমের ব্যবস্থা করেন।



সাতদিনের সেরা