kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মোবাইলে লুডু খেলায় বকা, শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৮:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইলে লুডু খেলায় বকা, শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা

নিহত শিশু রতন।

শিবচরে মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে বকা দেওয়ায় রতন মোল্লা (৮) নামের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা ও সোহান (৯) নামের অপর এক শিশুকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে এই দুই শিশুকে মেহেদী নামের এক যুবক বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে এক্সপ্রেস হাইওয়েতে গিয়ে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। শিবচর থানা পুলিশ মেহেদীকে গ্রেপ্তার করলে সে হত্যার কারণ হিসেবে এই তুচ্ছ ঘটনা উল্লেখ করে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জেলার শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকার নানা আনসু বেপারির বাড়িতে কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসে মেয়ের ঘরের নাতি মো. মেহেদী হাসান (১৮)। বাড়িতে আসার পর মেহেদী পাশ্ববর্তী কৃষক জসিম মোল্লার একমাত্র ছেলে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রতন মোল্লা (৮) ও নাসির সিকদারের ছেলে সোহানের (৯) সঙ্গে মোবাইলে গেম খেলত। মঙ্গলবার সকালে সোহানের মায়ের মোবাইলে আবারও এই তিনজন লুডু খেলে। খেলার সময় রতন ও সোহান মেহেদীকে বকা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেদেহী শিশু দুটিকে হত্যার ছক কষে।

ঘাতক মেহেদী হাসান।

সে মোতাবেক মঙ্গলবার বিকেলে ঘোরানো ও নতুন রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর কথা বলে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সোহানকে পানি, চানাচুর আনার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে দোকানে যেতে বলে। সোহান খাবার আনতে চলে যায় ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গেছে। সোহান যেতেই মেহেদী রতনকে ওই নির্জন স্থানে শ্বাসরোধে হত্যা করে। প্রায় ২০ মিনিট পর সোহান এসে রতন কোথায় জানতে চায়। মেহেদী জানায় রতন বাড়ি চলে গেছে। এ কথা বলে মেহেদী সোহানকে নিয়ে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় যায়। সেখানে নিয়ে সোহানকেও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করলে তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে মেহেদী নানাবাড়ি পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে।

নানাবাড়িতে পরিবারের লোকজন মেহেদীর সারা শরীরে কাদামাখা দেখে রতন ও সোহানের খোঁজ চায় স্বজনরা। কৌশলে মেহেদী বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে স্বজনরা শিবচর থানায় খবর দেয়। সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, ওসি মো. মিরাজ হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির সেরনিয়াবাতসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে ও হত্যাকাণ্ডের স্থানে রতনের লাশ দেখিয়ে দেয়। বের হয় হত্যার পৈশাচিকতা। উদ্ধার করা হয় মোবাইল ফোনটিও। বুধবার মধ্যরাতে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।

ঘাতক মেহেদী জানায়, মোবাইলে লুডু খেলার সময় ওরা আমার বাবা-মাকে বকা দেয়। তাই ওদের আমি হত্যা করি।

শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইলে লুডু খেলার সময় বকা দেওয়া নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা