kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

নীলফামারীর জলঢাকায়

চলছে নির্মাণ কাজ, ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে যেতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরদের

আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা (নীলফামারী)   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২২:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলছে নির্মাণ কাজ, ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে যেতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরদের

নীলফামারীর জলঢাকায় দক্ষিণ দেশীবাই বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির নিয়ে ক্লাস করছে। ফলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও দাতা সংস্থা আইডিএ, এডিবি, জাইকা, ইউনিসেফ এবং ইইইউ-এর অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত প্রাইমারি এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের অতিরিক্ত ক্লাস রুমের জন্য দক্ষিণ দেশীবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ‘মেসার্স কে এম আবু বকর’ নামে কুড়িগ্রাম জেলার একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ৮২০ টাকা চুক্তি মূল্যে কাজটি পায়।

প্রতিষ্ঠানটির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফা বেগম ও মৌসুমী জানায়, আমাদের স্কুলের সামনে ঠিকাদার কাজ না করে পুকুর খুঁড়ে রেখেছে। খুব খারাপ কাজ করেছে। কেউ যদি মারা যায় তাহলে দুঃসংবাদ এখানে আসবে। আমাদের এখানে ছোট ছোট বাচ্চারা লেখাপড়া করে। কেউ পিছলে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এজন্য বড় স্যারদের এখানে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

সহকারী শিক্ষক শারমীন সুরাইয়া ও জিয়াউর রহমান জানান, কর্তৃপক্ষের কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। আমাদের সবাইকে বিপদজনক অবস্থায় ফেলে রেখেছেন।

প্রতিষ্ঠনের কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, ক্লাস রুম বাড়ার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করতে আসা ঠিকাদার ভিত কেটে পুকুর করেছেন। নির্মাণ সময় শেষ হলেও এখন পর্যন্ত ভিত্তিই দেননি। মাঝখানে আমরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। বাচ্চাদের এভাবে স্কুলে পাঠিয়ে কি নিশ্চিন্তে থাকা যায়?

দক্ষিণ দেশীবাই বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা পারভীন আকতার বলেন, ঝুঁকির মধ্যে আছে বাচ্চারা। পানিতে ভরা ৬/৭ফুট গর্ত আছে, বাচ্চাদের উচ্চতা ৩/৪ফুট। গর্তের থেকে শ্রেণি কক্ষের দূরত্ব তো বেশি না। যার ফলে বাচ্চারা অনায়াসেই সেখানে আনাগোনা করে। আমি জুন মাসে উপজেলা প্রকৌশলীকে একটি চিঠিও দিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। তাই কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা হলে দায়ভার কে নেবে?

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, জুলাই মাস হতে দুই দিন কথা বলেছি উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে। তিনি আমাকে বলেছিলেন কাজ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। এখন শিশুদেরকে তো আর ঝুঁকির মধ্যে রাখা যাবে না। আমরা খননকৃত মাটি ভরাটের ব্যবস্থা করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিল প্রক্রিয়াধীন আছে। সদর দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে। 



সাতদিনের সেরা