kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অসহায় সুফিয়া-কাওছারের খোঁজ নিলেন ইউএনও-চেয়ারম্যান

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসহায় সুফিয়া-কাওছারের খোঁজ নিলেন ইউএনও-চেয়ারম্যান

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পশ্চিম ঢাকারোডে সওজের জায়গায় একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করেন এক সময়ের পালা গানের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সুফিয়া-কাওছার দম্পতি। পালা গানের সেই গুণী শিল্পী কাওছার আলী বয়াতী (১০৯) বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে আর্থিক সঙ্কটে সেই বাড়িতে চরম দুরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন খবর জানার পর তার পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সিরাজুল ইসলাম খান রাজু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবণী রায়।

গুণী এই শিল্পীর দুরাবস্থার কথা জানতে পেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি হুইল চেয়ার, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের খাদ্যসামগ্রী ও কিছু আর্থিক সহায়তা নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হন। হঠাৎ সহযোগিতা পেয়ে অসুস্থ এই শিল্পী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল হক মন্টু, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাবু ও সান্তাহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সেই গুণী শিল্পী কাওছার আলী বয়াতী কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি ১৯১২ সালে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার পারইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে তিনি পালাগান চার্চা করতেন। আস্তে আস্তে তিনি এলাকায় শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে গানের জন্য ডাক আসতে শুরু হয়। গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে কাওছারের খ্যাতি। এরপর তিনি সুফিয়াকে তার দলে টানেন। একপর্য়ায়ে ভালোবেসে বিয়ে করেন তাঁরা দু’জন। বিয়ের পর তারা আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। দেশব্যাপী ‘সুফিয়া-কাওছার’ নামটির পরিচিতি ঘটতে শুরু করে। পালা গানের পাশাপাশি তাঁরা লালন গীতি, পাঞ্জুগাহ ও হালিম সঙ্গীত গানের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।

প্রায় শতাধিক গান গেয়েছেন। ‘কে বলে মানুষ মরে’, ‘সাধু গঞ্জে যাবি যদি মন আমার’, ‘আল্লাহ প্রাপ্ত বিষয় সত্য, তত্ব বিধান পরের কাছে’, প্রভৃতি গানের জন্য তিনি বিখ্যাত। তিনি আরো জানান, নওগাঁর রানীনগরের পারইল গ্রামে তার প্রথম স্ত্রী ও ৪ সন্তান রয়েছে। আর সুফিয়ার পক্ষের ৪ সন্তানকে নিয়ে তারা বর্তমানে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের পশ্চিম ঢাকারোড নামক স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গায় অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন। দিন এনে দিন খাওয়া ছেলে-মেয়েদের পক্ষে বাবা-মায়ের দেখভাল করায় কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

শেষ সময়ে চাওয়া-পাওয়া সর্ম্পকে জানতে চাইলে কাওসার দম্পতি বলেন, আমাদের তেমন বড় কিছু চাওয়া পাওয়া নেই। ‘আমরা শুধু একটি ঘর চাই’ যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি’। কারণ রাস্তার পাশের জায়গায় ঘর হওয়াই সব সময়ই মনে হয় এই বুঝি ঘর ভাঙা পড়ল। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে হোক বা কারো ব্যক্তিগত সহায়তায় হোক ‘যদি কেউ একটি বাড়ি করতে সহযোগিতা করতো তাহলে দুশ্চিন্তামুক্ত হতাম।

সান্তাহার বিহঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও বীর বিক্রম শহীদ লে. আহসানুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম আসাদুল হক বেলাল বলেন, সুফিয়া-কাওছার দম্পতি এ অঞ্চলে পালা গানের জন্য এক সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। এমন গুণী মানুষদের দু:সময়ে সরকারের ও সমাজের বিত্তশালীদের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।

আদমদীঘি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সিরাজুল ইসলাম খান রাজু জানান, বিষয়টি জানার পর কিছুটা সহায়তা করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা