kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

'এই মেয়ে, এতো রাতে বাহিরে কি?'

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'এই মেয়ে, এতো রাতে বাহিরে কি?'

'এই মেয়ে, এতো রাতে বাহিরে কি? সিএফসি ১৯-২০' এটিই এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সবচেয়ে  আলোচিত বিষয়। চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন দেয়ালে দেখা মিলছে এ চিকার। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের  মাঝে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ ভাবছেন এটি ছাত্রী হেনস্তার প্রতিবাদ হিসাবে লিখা হয়েছে। আবার কেউ কেউ হুমকি হিসাবে বিবেচনা করছেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথম বর্ষের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) চার ছাত্রলীগকর্মীর হেনস্থার শিকার হয় তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী গ্রুপ সিএফসির কর্মী হিসাবে পরিচিত।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, ওইদিন রাতে বাসায় ফেরার পথে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তাদের গতিরোধ করে চার ছাত্র। পরিচয় জানার পরেও ‘এতো রাতে ক্যাম্পাসে কি’ এ প্রশ্ন করে উত্যক্ত করতে থাকে। এরপর  প্রক্টরের গাড়ি আসতে দেখলে তারা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় জুনায়েদ নামের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক প্রক্টরিয়াল বডি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোবইল ফোন জব্দ করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে এ ঘটনার জানা জানি হলে গত শনিবার রাতের অন্ধকারে এ চিকা মারা হয়। কে বা কারা এ চিকা মেরেছে তা এখনও জানা যায়নি।

ছাত্রলীগ কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদেই এই চিকা লেখা হয়েছে বলে মনে করেন ছাত্র ইউনিয়ন চবি সাংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী নিতু।

তিনি বলেন, ভিক্টিমদের চরিত্রহননের যেই চেষ্টা ঘটানার পর থেকে এখন পর্যন্ত হচ্ছে সেইটাকেই মূলত উপহাস করা হয়েছে। এবং ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন সংগঠনের যে পুলিশিং হাবভাব পুরোটাকেই ফুটিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে এই লিখনে।

অপরদিকে, এটিকে হুমকি মনে করছেন শাখা ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চিকা কে লিখেছে প্রশাসনের এটা শনাক্ত করা উচিত। পাশাপাশি হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

তবে এই চিকা যেই লিখে ধাকুক না কেন এর বিচার চান ওই রাতের ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী। জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে তারা বলেন, এটি ভয় দেখাতে লিখা হোক বা ছাত্রলীগকে উপহাস করে লিখা হোক আমরা এর বিচার চাই। এর মাধ্যমে হেনস্তার মতো সিরিয়াস একটা ইস্যুকে এখন হাসির খোরাক বানানো হয়েছে। এতে  বিচার চাওয়ার যে একটা উদ্দেশ্য ছিলো সবার মধ্যে তা থেকে মনোযোগ সরে যাচ্ছে।

তারা আরো বলেন, আমরা প্রক্টরের কাছে এই চিকার বিচার চেয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমরা চাই চিকা যেই লিখে থাকুক তা সবার সামনে আসুক। এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি। এটি খতিয়ে হচ্ছে। বিশ্বিবদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ে সব শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার আছে। তদন্ত করে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবাস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা