kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হাসপাতালের অবস্থা এই!

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা    

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাসপাতালের অবস্থা এই!

ভাগাড় নয় হাসপাতাল - চারপাশে আবর্জনার স্তূপ। একে তো দুর্গন্ধ, তার ওপর জীবাণু সংক্রমণের ভয়। এর মধ্যেই রোগী নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। দেড় মাস ধরে চলছে এই অবস্থা। পরিস্থিতি উত্তরণে পৌরসভা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলছে ঠেলাঠেলি। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোর থেকে বেসরকারি চাকরিজীবী মনিরুল ইসলাম এসেছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। ফ্লু কর্নারের সামনে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি আবর্জনার স্তূপ দেখিয়ে বলেন, ‘এখানে তো আবর্জনা থাকার কথা না। আবর্জনার ওপর দিয়েই রোগী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালের ভেতরে। বাইরেও আনা হচ্ছে। এতে তো রোগী আরো অসুস্থ হবেন। জীবাণু সংক্রমণ হওয়ার ভয়ও আছে। এটা তো আবর্জনা ফেলার জায়গা হতেই পারে না। চুয়াডাঙ্গার মানুষেরা কিছু বলেন না কেন?’

হাসপাতালে আসা রোগী, রোগীর স্বজনসহ সবার একই অভিযোগ। চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্টপাড়ার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘রান্নাঘরের পাশেই ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য এটা অনেক বড় ঝুঁকির ব্যাপার। খাবারের সঙ্গ রোগজীবাণু মিশে যাওয়ার ভয় রয়েছে।’

হাসপাতালে আসা অনেকের অভিযোগ, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ফ্লু কর্নার, করোনা ওয়ার্ড, করোনার ইয়েলো জোন, রেড জোন, যেখানেই যে কেউ আসুক না কেন তাকে এই আবর্জনা দেখতে হবে। আবর্জনার দুর্গন্ধ পেতে হবে। আবর্জনার পাশ দিয়ে যাওয়া-আসা করা হাসপাতালের এক কর্মী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, দিনে ১৫-২০ বার এই আবর্জনার ওপর দিয়ে তাঁকে সদর হাসপাতালের ভেতরে যেতে-আসতে হয়। এই পথে যাওয়ার সময় তিনি নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখেন। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাঁর পায়ে আবর্জনা জড়িয়ে হাসপাতালের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। কিছুই করার নেই। আবর্জনা অন্য স্থানে ফেলার কথা তাঁরা বলেছেন, কোনো কাজ হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য একজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার গাড়ি এসে হাসপাতালের বর্জ্য নিয়ে যায়। ফেলে আসে অন্যত্র। দেড় মাস ধরে গাড়ি নিয়মিত আসছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। এ কারণে আবর্জনার স্তূপ হয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার গাড়ি আসে মাঝেমধ্যে। কোনো রকমে একটু আবর্জনা তুলে নিয়ে চলে যায়। বেশির ভাগ আবর্জনা পড়েই থাকে। শুনেছি, বর্জ্য ফেলার বরাদ্দ আসে হাসপাতালে। তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দূরে কোনো ফাঁকা স্থানে আবর্জনা ফেলে আসে না কেন?’

হাসপাতালের বর্জ্য নিয়ে এই অবস্থা শুরু হয়েছে দেড় মাস ধরে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অভ্যন্তর ঘুরে দেখা গেছে, সিঁড়ির কোনায় কোনায় আবর্জনা জড়ো করে রাখা। হাসপাতালের দোতলা-তিনতলায় উঠতে গেলে আবর্জনা ডিঙিয়ে যেতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে ঢোকার মুখে দেয়ালের পাশেও জড়ো করে রাখা হয়েছে আবর্জনা। মাত্র দেড় মাস আগেও হাসপাতালের এ অবস্থা ছিল না। অন্তত হাসপাতালের ভেতর থেকে আবর্জনা বাইরে এনে ফেলা হচ্ছিল। সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘দুটি ভবন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। একটি ছয়তলা, আরেকটি তিনতলা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে চারজন। সাতটি পদ আছে। তিনটি শূন্য। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে ২০০৩ সালে; কিন্তু লোকবল দেওয়া হয়নি। ৫০ শয্যার লোকবল নিয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় আমরা কোনোভাবে পেরে উঠছি না। পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত বর্জ্য বাদে অন্য সব বর্জ্য পৌরসভার গাড়ি এসে নিয়ে যাবে। আশা করা যায়, তাড়াতাড়িই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

তবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার গাড়ি হাসপাতালের বর্জ্য ফেলবে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, রোগীদের গজ, সুচ, সিরিঞ্জসহ নোংরা আরো অনেক কিছু আছে, তা পৌরসভার গাড়ি গিয়ে ফেলার কথা নয়। হাসপাতালের বর্জ্য মানেই তো রক্তমাখা ব্যান্ডেজ ইত্যাদি বেশি থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগ এসব ফেলার ব্যবস্থা নিক।’



সাতদিনের সেরা