kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পায়রা সেতু: ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবে 'হেল্প মনিটরিং সিস্টেম', আগামী মাসে উদ্বোধন

বরিশাল অফিস   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পায়রা সেতু: ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবে 'হেল্প মনিটরিং সিস্টেম', আগামী মাসে উদ্বোধন

বরিশালবাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতুর বিশেষ বৈশিষ্ট্যটা হলো- বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে 'হেল্প মনিটরিং সিস্টেম'। প্রকৃতিক দুর্যোগ অথবা ওভারলোডেড গাড়ি চলাচলের কারণে যেন বড় কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য পূর্বাভাস দেবে এই সিস্টেম। পূর্বাভাস পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে সেতু কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পায়রা সেতুতে হেল্প মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।  এদিকে সেতুন নির্মাণের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের। প্রকল্প সংশিষ্টরা বলেছেন, আগামী মাসের যেকোনো সময়ে উদ্বোধন শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেতুটি।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হালিম বলেন, ব্রিজটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটিতে ব্রিজ হেল্প মনিটরিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। যাতে ভূমিকম্প বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রকৃতিক দূর্যোগ অথবা ওভার লোডেড গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বভাস মিলবে এই মনিটরিং সিস্টেম থেকে। তাছাড়া এটি দেশের দ্বিতীয় ব্রিজ, যা এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল সিস্টেমে তৈরি করা। আগামী মাসের যেকোনো সময় সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।  

প্রকল্প পরিচালক জানান, বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৩৯ কিলোমিটারে পায়রা নদীর ওপর ১১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পায়রা সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার এবং প্রস্থ ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। এটি নির্মাণে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ বিনিয়োগ করেছে। ২০১৬ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। সেতুটি নির্মাণ করেছেন চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লনজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন। এটি নির্মাণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর আদলে নান্দনিক নকশায়। সেতুটি দু'পাশ এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল দিয়ে সংযুক্ত করায় নদী অংশে মাত্র একটি পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। পায়রা নদীর মূল অংশে ৬৩০ মিটার বক্স গার্ডার চারটি স্প্যানের ওপর এটি নির্মিত হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরে উপকূলীয় পণ্য ও জ্বালানিবাহী নৌযান চলাচলের জন্য মূল অংশে ২০০ মিটার করে দুটি স্প্যান ১৮.৩০ মিটার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে।

নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশে সর্ববৃহৎ। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত হয়েছে। এছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে এটিতে। যার ফলে দূর থেকে সেতুটিকে মনে হবে ঝুলে আছে। এছাড়া জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮.৩০ মিটার উঁচু থাকবে। চার লেনবিশিষ্ট সেতুটির নদীর উভয় প্রান্তে মোট ১ হাজার ২৬৮ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। টোলপ্লাাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেকট্রিফিকেশন, নদীর শাসন প্রকল্পের কাজও শেষ হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতু পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল। তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হালিম, বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন, পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে তারা সেতুর টোল পয়েন্ট এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে মতবিনিমিয় করেন।

সেতু পরিদর্শন মতবিনিময় সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল সাংবাদিকদের  বলেন, আমাদের জন্য আনন্দের এবং ঐতিহাসিক দিন। এতো সুন্দর একটি ব্রিজে আমরা আসতে পেরেছি। বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এমন নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াতব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য। পায়রা সেতুটি অত্যন্ত নান্দনিক ও শৈল্পিকভাবে নির্মাণ কারা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে আকাঙ্ক্ষাকার উন্নত ও সমৃদশালী বাংলাদেশ হবে।

তিনি জানান, গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম পায়রা সেতু পরিদর্শন করেছেন। আমরা আশা করছি আগামী মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিধামতো সময়ে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ব্রিজটি উদ্বোধন করবেন। সেজন্য আমরা মতবিনিময় সভা করেছি।  সভায় উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিসহ উদ্বোধনীয় মঞ্চ স্থাপন এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা