kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

'আপনেরা ভালো কইরা লেখলে মুই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পামু'

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'আপনেরা ভালো কইরা লেখলে মুই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পামু'

'এই স্যারে মোর দুঃক্কের কথা দুই চাইর কলোম লেখলে মুই এইট্টা প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাইতাম। হেলে আর মোর বাসা ভাড়া দেওয়া লাগে না, হেই কয় টাহায় চাউল কেনতে পারতুম।

পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়সের প্রতিবন্ধী লাল মিয়া তার দোকানে পান কিনতে আসা সমবয়সী জৈনিকের সাথে সোমবার বিকেলে এ কথাগুলো বলছিলেন। তিনি মূলত 'কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধিকে দেখে কথাগুলো বলেন যাতে তার কষ্টের অনুভূতিগুলো পত্রিকায় ছাপানো হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়লে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে পারেন।

জানা গেছে, লাল মিয়া জন্ম প্রতিবন্ধী। স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে তার পরিবার। পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিয়ালবুনিয়া গ্রাম থেকে ২০০৪ সনের জুন মাসে বেতাগীতে আসেন। বেতাগীতে আসার পর তিনি ভিক্ষা করতেন। এভাবে ১০ থেকে ১২ বছর ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এরপর ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও তিনি বেতাগী পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ৮ বছর ধরে শহরের কাচাঁবাজার সংলগ্ন পাবলিক টয়লেটের লিজ নিয়েছে। সেখানে তেমন কোনো উপার্জন নেই। প্রতিদিন যা উপার্জন হয় তা দিয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন।

প্রতিবন্ধী লাল মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধী হিসেবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মোর তো ঘর পাওয়ার কথা। কিন্তু ঘর পাওয়া তো দূরের কথা এখনো মোর প্রতি নজরই আসেননি কারও। আপনারা একটু ভালো কইরা লেহেন, হেলে পাইতে পারি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ উপজেলায় গৃহহীন পরিবারের পুনবার্সনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তাবায়ন করলেও হতদরিদ্র এই শারীরিক প্রতিবন্ধীর তালিকায় নাম নেই।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওলিউল্লাহ বলেন, এ বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে তাকে ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা