kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভায় অভিযোগ

চট্টগ্রামের গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও হয়রানি বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও হয়রানি বেড়েছে

লকডাউন-পরবর্তী চট্টগ্রামের গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি আরো এক দফা বেড়েছে। এখানে শহরতলিতে বসবাসকারীরা প্রতিদিন এই নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। সকালে এক ভাড়া, বিকেলে আরেক ভাড়া, রাত হলে আরেক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রোদেলা দিনে এক ভাড়া, বৃষ্টি হলে আরেক ভাড়া আদায় করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।

যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ‘যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধের পদক্ষেপ চাই’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে। সভায় দ্রুত এসব হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোকতার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ভাড়ায় সঠিক সময়ে দুর্ঘটনামুক্তভাবে যাতায়াত অন্যতম অধিকার। যানবাহনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, শ্রেণিবৈষম্য দূর করা এবং রাস্তাঘাটে নির্বিঘ্ন চলাচলে আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় যাত্রী অধিকার ভূলণ্ঠিত হচ্ছে।’ বক্তব্যে সুজন বিআরটিএর অনিয়ম-দুর্নীতি ও ট্রাফিক বিভাগের উদাসীনতায় সড়কে যানজট, জনজট, ফুটপাত বেদখলসহ নানা হয়রানির চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অতীতে চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রতিটি উপজেলায় যাতায়াতের বাস নেটওয়ার্ক ছিল। এসব নৈরাজ্যের হাত প্রসারিত করার সুদূর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে সব বাস নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক, মোটরসাইকেল ও টুকটুকি এখন বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে। এসব বাহনে আরামদায়কভাবে যাতায়াত করা যায় না, কিন্তু ভাড়া গুনতে হয় কয়েক গুণ বেশি। যত্রতত্র পার্কিং, যানজট, জলজট ও দুর্ঘটনায় প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এসব বাহন। তিনি অনতিবিলম্বে এসব ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে মানসম্মত ৪০০ নতুন বাস নামানোর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি জোর দাবি জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমতিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন বারভিডার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেলা পরিষদ সদস্য জাফর আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী, যাত্রী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. রাজা মিয়া, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল আমিন, সহসভাপতি ওসমান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা