kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুর্নীতির সংবাদ ফেসবুকে দেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরকর্মীর শাস্তির সুপারিশ

নিজস্ব‌ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতির সংবাদ ফেসবুকে দেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরকর্মীর শাস্তির সুপারিশ

'বন্দরের দুর্নীতির একটি সংবাদ' ফেসবুকে শেয়ার করায় চট্টগ্রাম বন্দরের পরিকল্পনা বিভাগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে শেয়ার করা কর্মীর নাম মো. মেহেদি হাসান মজুমদার। তিনি বন্দরের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান সহকারী। একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) কার্যনির্বাহী সদস্যও তিনি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নিউজটি শেয়ার করে তিনি বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রশাসন দপ্তর থেকে ফাইলটি এখন প্রশাসন বিভাগ হতে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অনুমোদনের জন্য যাচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই ধরনের একটি ফাইল বন্দর প্রশাসনের দপ্তরে আছে। তবে বন্দরের একটি আচরণবিধি আছে সেই বিধি লঙ্ঘন করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে।

উল্লেখ্য, 'মাইক্রোবাস ভাড়া করে হরিলুট' এবং 'চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ বছরে ১১ কোটি টাকা মাইক্রোবাস ভাড়া পরিশোধ' শীর্ষক খবর নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন মেহেদি হাসান মজুমদার। এই খবর শেয়ার করায় চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা, চাকরি থেকে সাময়িক সাসপেন্ড এবং বিভাগীয় মামলা প্রদানের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়।

কিন্তু বন্দরকর্মীদের সাথে কথা বলে এই শাস্তির নেপথ্যে ভিন্ন কারণ জানা গেছে। সেটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মেয়াদোত্তীর্ণ সিবিএ নির্বাচন নিয়ে আগে ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন মেহেদি হাসান মজুমদার। সেই পোস্টে নির্বাচন না হওয়ার জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এরপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বর্তমান সিবিএ ভারপ্রাপ্ত নেতারা চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে মেহেদি হাসানকে শাস্তিমূলক বদলি করেন। পরিবহন বিভাগ থেকে বদলি করে তাকে পরিকল্পনা বিভাগে নেওয়া হয়। এরপর সিবিএ নেতারা মেহেদি হাসানের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে নানা হুমকি-ধমকি দিতেন। সম্প্রতি মাইক্রোবাসের হরিলুট নিয়ে সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার দিলে আগে থেকে ক্ষুদ্ধ হওয়া সিবিএ নেতারা আবারো তার ওপর খড়্গহস্ত হন। পেয়ে যান মোক্ষম সুযোগ। বিষয়টি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য ফাইল তৈরি করেন।

এ বিষয়ে মেহেদি হাসান মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেসবুক শেয়ার করা নয়, বন্দর সিবিএ নির্বাচন চাওয়াই আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমান সিবিএ কমিটিতে আমি একজন নির্বাচিত সদস্য। এই কমিটি দুই বছরের স্থলে চার বছর ক্ষমতায় আছে; সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অবসরে যাওয়ার পর দুজন ভারপ্রাপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাউকেই অনুমোদন দেয়নি শ্রমদপ্তর। এসব অভিযোগ তুলে আমি নির্বাচন দাবি করাতেই আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এর আগে বিভাগীয় বদলিও করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা