kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সরকারি জমিতে মার্কেট তুলে পজিশন বিক্রি করছেন শিক্ষক!

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি জমিতে মার্কেট তুলে পজিশন বিক্রি করছেন শিক্ষক!

নীলফামারীর জলঢাকায় কোটি টাকার সরকারি জমি অবৈধ পন্থায় দখলে নিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। দখলকৃত জমিতে ইতিমধ্যে দোকান ঘর তুলে পর্যায়ক্রমে মোটা অংকের টাকায় পজিশন বিক্রি করে পাশেই মার্কেট নির্মাণ করছেন তিনি। এসব প্রকাশ্যে ঘটলেও অদৃশ্য কারণে নীরব কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, উপজেলার মীরগঞ্জ আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মমিনুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রায় ৩০ শতক সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করেছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকার অধিক। পরে সেসব জমিতে পর্যায়ক্রমে টিনের ঘর/চালা তুলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছেন। সেই টাকা দিয়ে পাশেই মার্কেট নির্মাণ করছেন। সরকারি জমি বিক্রি করছে এমন অভিযোগ মৌখিকভাবে অসংখ্যবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে করেও বিফল বলে জানায় এলাকাবাসী।

মীরগঞ্জ ভূমি অফিস সূত্র জানায়, এক একর ৫৯ শতক ভূমি অফিসের জায়গা। আর মীরগঞ্জহাটের প্রায় ৭-৮ একর জমি আছে। এসবের মাঝে সিংহভাগ জমিই প্রায় অবৈধ দখলদারদের কবলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এলাকার মমিনুর রহমান মাস্টার দীর্ঘদিন ধরে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রায় ৩০ শতক সরকারি জমি দখলে নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করে চলেছেন। সম্প্রতি মীরগঞ্জ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড পূর্ব শিমুলবাড়ী গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের নিকট তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা ও নগর মীরগঞ্জ যোগীপাড়া এলাকার পান্নাথ চন্দ্রের ছেলে বুলু চন্দ্রের নিকট তিন লাখ ৫০ হাজার টাকায় দুটি দোকানের পজিশন বিক্রি করেন তিনি। সম্প্রতি সাদ্দাম হোসেনের দোকান ঘরটি তরিঘড়ি করে পাকা করাকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার গোলাম রব্বানীর নিকট মৌখিক অভিযোগ করেন। সেদিন সন্ধ্যায় তহশীলদার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশেধ করেন। অদৃশ্য কারণে আবারো চলছে পাকা করানোর কাজ।

মীরগঞ্জ ইজারাদারের পক্ষ হতে জানা যায়, হাটের জমি অবৈধ দখলে নিয়ে কেউ স্থায়ী পাকা ঘর নির্মাণ করতে চাইলে আমরা বাধা দেই। পরে অদৃশ্য শক্তিতে ওই স্থানে ওই ব্যক্তিগুলো ঠিকই স্থায়ী পাকা ঘর নির্মাণ করেন। ম্যানেজ হয় প্রশাসনের কর্তারা আর মাঝখানে আমাদেরকেই প্রতিপক্ষ হিসাবে রাখে। এজন্য তহশীলদার কিংবা ঊর্ধ্বতন কাউকে আর এই বিষয়গুলো নিয়ে বলি না।

অবৈধ দখলদার ও শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, আমার বাবার আমল হতে এই দোকানগুলো আছে। মীরগঞ্জ বাজারে এমন অহরহ জায়গা কেনা-বেচা হচ্ছে। অন্যখানে আমার বসার জায়গা আছে। আমি দুই লাখ টাকা নিয়ে সাদ্দামের কাছে একটি পজিশন বিক্রি করেছি। আমার প্রয়োজন তাই আমি বিক্রি করেছি।

বিষয়টি নিয়ে মীরগঞ্জ ভূমি অফিস তহশীলদার গোলাম রব্বানী বলেন, আমি মোবাইল ফোনে সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়(৯অক্টোবর) ঘটনাস্থলে আসি। তাদেরকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। মোবাইলে বিষয়টি ইউএনও স্যারকে বলেছি।

এবিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। কেউ সরকারি জমি কেনা-বেচা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা