kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভাবির ত্রিভুজ পরকীয়া! পরিবারের 'মান বাঁচাতে' বন্ধুকে খুন করেন দেবর

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাবির ত্রিভুজ পরকীয়া! পরিবারের 'মান বাঁচাতে' বন্ধুকে খুন করেন দেবর

ভাবির সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া প্রেম। একই সঙ্গে এলাকার আরো এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ভাবির। বিষয়টি কানে আসে দেবরের। তাই পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে ভাবির এক প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে বন্ধুকে খুন করেন দেবর। এমন ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নে। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের জমির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন গাজীপুর পিবিআইর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।

গত বছরের ১০ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের পাবুরিয়া গ্রামের মো. জমির আলীর ছেলে রাসেল (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ১৫ জুলাই সকালে তার বাড়ির এক কিলোমিটার দক্ষিণে গজারি বনের ভেতর থেকে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের বাবা শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের ১৪ মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাসেল হত্যা সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন রাজাবাড়ি ইউনিয়নের পাবুরিয়াচালা এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে মো. রানা (২২), একই গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. হেলাল (৪৫) ও মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে মো. কাওছার (২৩)।

পিবিআইএর ওই কর্মকর্তা জানান, নিহত রাসেলের বাবা মো. জমির উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত হত্যা মামলা করেন রাসেলের বাবা জমির উদ্দিন।

তিনি জানান, শ্রীপুর থানা পুলিশ মামলাটি প্রায় ৫ মাস তদন্ত করে। তদন্তে কোন রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারায় ঢাকা পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এ মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআইএর তদন্তকালে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আসামি রানা, হেলাল ও কাওছারকে পাবুরিয়াচালা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা রাসেল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গতকাল তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে ক্লুলেস এ ঘটনার প্রায় ১৪ মাস পর চাঞ্চল্যকর রাসেল হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, আসামি কাউছারের প্রবাসী মেজো ভাই মো. ফরিদের স্ত্রীর সঙ্গে রাসেলের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। রাসেল এবং গ্রেপ্তার রানা একই সঙ্গে চলাফেরা করতেন। একপর্যায়ে রানার সঙ্গে রাসেলের পরকীয়া প্রেমিকার গোপন সম্পর্ক হয়। এ সম্পর্কের খবর রাসেল জানতে পারায় তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরে।

পরবর্তীতে পরিবারের মান সম্মানের কথা বিবেচনা করে রানা ও হেলালের সঙ্গে বসে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে কাওছার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই প্রবাসীর স্ত্রী মোবাইল ফোনে রাসেলকে পার্শ্ববর্তী শহুরেটেক গজারী বনে ডেকে নেয়। সেখানে রাসেলের সঙ্গে রানা, হেলাল ও কাওছারের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা রাসেলের গলায় রশি বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশটিকে মাটিতে বসিয়ে গলায় বাঁধা রশির একটি মাথা গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। 



সাতদিনের সেরা