kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মান্দায় ভেজাল কীটনাশকে বাজার সয়লাব, দিশেহারা কৃষক

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি    

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৪:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মান্দায় ভেজাল কীটনাশকে বাজার সয়লাব, দিশেহারা কৃষক

নওগাঁর মান্দায় ভেজাল ও নিম্নমানের কীটনাশকে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানহীন এসব কীটনাশক জমিতে দফায় দফায় প্রয়োগ করেও সুফল মিলছে না। এ অবস্থায় পোকার আক্রমণ ঠেকাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কৃষি দপ্তরের পরামর্শও পাচ্ছেন না তারা। কৃষকদের অভিযোগ, কীটনাশক ভেজাল ও নিম্নমানের হওয়ায় জমি থেকে পোকা সরানো যাচ্ছে না। ক্ষেতের মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকা সারাতে অনেক কৃষককে এরই মধ্যে জমিতে ৩ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। আগামিতে পচন ও কারেন্ট পোকা রোধে কয়েকদফা স্প্রে দিতে হবে। এতে ধানের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। ফলন বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে। 

তারা অভিযোগ করে বলেন, কৃষকদের এখন চরম সংকটময় অবস্থা চলছে। এসময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কোন সহায়তা ও পরামর্শ পাচ্ছেন না। মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন কৃষকেরা।

উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, ধান গাছের বয়স চলছে ৪৫ থেকে ৫০ দিন। এরই মধ্যে পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে জমিতে তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবুও জমি থেকে পোকা সরানো যাচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, মান্দা উপজেলায় মাঝে-মধ্যেই নকল কীটনাশক ধরা পড়ে। ভেজাল কীটনাশকের কারখানাও আবিষ্কার করে পুলিশ। এসবের কারণে কীটনাশকের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, এবার জমিতে ভিরতাকো প্রয়োগ করে সুফল পাননি। খেত থেকে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকা সরাতে ১৮ দিনের ব্যবধানে ৩বার স্প্রে দিতে হয়েছে। তার মতো অনেক কৃষককে একইভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। 

কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, পাতা মোড়ানো রোগের জন্য দুটো কম্পানির কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। দ্বিতীয় দফায় একাধিক কীটনাশক প্রয়োগ করেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি। অবশেষে ফসল রক্ষায় জমিতে তৃতীয় দফায় স্প্রে দিতে হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, কীটনাশক ভেজাল ও নিম্নমানের না হলে প্রথমবারেই কাজ হতো। একাধিকবার প্রয়োগ করায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়সহ ধানগাছ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিসহ ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন জানান, ফুতি পোকা থেকে ধান গাছের পাতা মোড়ানো রোগের উৎপত্তি হয়ে থাকে। মূলত এর নাম মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা। এর কার্যকরী কোনো ট্রিটমেন নেই। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। 

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা না করেই কোন কীটনাশককে ভেজাল বা নিম্নমানের বলা যায় না। ভেজাল প্রতিরোধে কীটনাশকের দোকানগুলোতে নজরদারী বাড়ানোসহ অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের বৈদ্যপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কম্পানির বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক ও সার উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ওই কারখানা থেকে কয়েক ধরণের মেশিন ও উপকরণ জব্দ করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর দক্ষিণ পরানপুর এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ভেজাল কীটনাশক।



সাতদিনের সেরা