kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

একের পর এক পানিতে ডুবে মরার ঘটনা হাজীগঞ্জে

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৩:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একের পর এক পানিতে ডুবে মরার ঘটনা হাজীগঞ্জে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে মরার যেন হিড়িক পড়েছে। ডুবে মারা গেছেন শিশু, কিশোরী, এমনকি বৃদ্ধ পর্যন্ত। গত ৯ দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিতে পড়ে মারা গেছেন ছয়জন। পানিতে ডুবে মারা যাওয়াদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।  এসব মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গন্ধ্যর্বপুর উত্তর ইউনিয়নে গন্ধ্যর্বপুর গ্রামের সাহেববাড়ির পুকুরে ডুবে মারা যায় এ বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে রবিন (২)।  

এ ছাড়া গত বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায় উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ওড়পুর ভুঁইয়াবাড়ির জয়নাল আবেদিনের মেয়ে আসমা আক্তার (১৫)। আসমা স্থানীয় রামপুর আল বান্না স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয়রা জানিয়েছে, আসমা মৃগী রোগী ছিল।

একই দিন সকালে পৌরসভাধীন ১২ নম্বর ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া গ্রামের ছৈয়ালবাড়ির মনোয়ার হোসেনের ছোট মেয়ে খাদিজা আক্তার (৩) পানিতে ডুবে মারা যায়। খাদিজা বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পুকুরে ভাসতে দেখে বাড়ির লোকজন। সেখান থেকে খাদিজাকে তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই দিনই দুপুরে উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ মিজিবাড়িতে মাইশা আক্তার (২) পানিতে ডুবে মারা যায়। মাইশা ঘটনার দুই দিন আগে মতলব উপজেলা থেকে নানাবাড়িতে আসে। ঘটনার দিন মাইশা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পুকুরে ভাসতে দেখে বাড়ির লোকজন। সেখান থেকে খাদিজাকে তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামের ছৈয়ালবাড়ির মৃত আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী শিরিন বেগম (৫০) পুকুরে ডুবে মারা যান। শিরিন বেগম মৃগী রোগী ছিলেন বলে নিহতের পরিবার নিশ্চিত করেছে।

গত শুক্রবার উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ বেপারীবাড়িতে জসিম উদ্দিনের ছেলে জাবেদ হোসেন (২) পানিতে ডুবে মারা যায়। শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলার সময় পরিবারের অগোচরে বাড়ির পুকুরে পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজি করতে করতে তাকে পানিতে ভাসতে দেখেন বাড়ির লোকজন। এ সময় দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া আমরা শিশুদের মরদেহ যার যার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, মৃগী রোগী হোক বা শিশু হোক, পানিতে ডুবে মরার জন্য মূলত দায়ী অভিভাবকরা। শিশুদের দেখভালের বিষয়ে বিশেষ করে শিশুরা ঘরের বাইরে খেলতে গেলে অভিভাবকদের আরো সতর্ক থাকতে হবে।



সাতদিনের সেরা