kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ডেমরায় দলিল লেখককে পেটালেন এমপি মনু!

বিশেষ প্রতিনিধি ও সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০২:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেমরায় দলিল লেখককে পেটালেন এমপি মনু!

ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এক দলিল লেখককে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ার দিয়ে মারধর করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর মাথা লক্ষ্য করে পানির গ্লাস ছুড়ে মারেন সংসদ সদস্য। গালাগালের পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী দলিল লেখকের নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক। মারধরের কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে দলিল লেখকদের মধ্যে বিরাজমান বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলেছে, ভুল-বোঝাবুঝির কারণেই এমনটা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ সদস্যের শ্যালক রবিন ৩০-৪০টি মোটরসাইকেলে দলবল নিয়ে বাঁশেরপুল এলাকায় অবস্থিত ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা আনোয়ার হোসেনকে গালাগাল শুরু করেন। এরপর সংসদ সদস্য সেখানে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, “এমপি মহোদয় হঠাৎ করে আমার অফিসে এসে আমাকে মারধর করে নানা হুমকি-ধমকি দেন। তিনি আমার চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দেন। এমপি মহোদয় আমাকে বলেন, ‘তুই আমাকে চিনিস? আমি যাত্রাবাড়ীর ছেলে। নিজের ভালো চাইলে এখান থেকে তুই চলে যাবি। আর রেজিস্টার করা দলিলপ্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা দিবি। নইলে দলিলের রসিদ দেওয়া হবে না।’ কেন তিনি এমন করলেন তা আমি জানি না।” সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আনোয়ার হোসেন গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দলিল লেখকদের মধ্যে দুটি গ্রুপ আছে। তিনি (এমপি) আরেকটি গ্রুপের পক্ষে। এখন তাঁর কাছে কে কী কানপড়া দিয়েছে, তা আমরা জানি না।’

ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের আগস্টে আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করি। কিছুদিন পর এমপি হন মনিরুল ইসলাম মনু। এরপর গত মার্চে হঠাৎ করে এমপির পিএস জিয়া দলবল নিয়ে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এসে আমাদের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি এমপির স্বঘোষিত অবৈধ কমিটি ঘোষণা করে সমিতির অফিস দখলে নেয়। তারা আমাদের নির্বাচিত কমিটিকে কোণঠাসা করে রেখেছে।’ আনোয়ার হোসেন জানান, মারধরের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন।

ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ফাইজুল হক খাঁন বলেন, ‘আমরা একটা আতঙ্কের মধ্যে আছি। কী করব বুঝতে পারছি না।’

ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্যের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জিয়া বলেন, ‘এমপি মহোদয় সংসদে আছেন। পরে কথা বলতে হবে।’



সাতদিনের সেরা