kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মির্জাপুরে বন্যাকবলিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো, নৌকা-বাড়িতে চলছে সেবা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মির্জাপুরে বন্যাকবলিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো, নৌকা-বাড়িতে চলছে সেবা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্যাকবলিত। বন্যাকবলিত হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা নিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে অবস্থান করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নৌকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ১৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এগুলোতে ১৩ জন চিকিৎসকসহ প্রায় ১৫০  জন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। ১৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি এবং ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক এখনও বন্যাকবলিত। বন্যাকবলিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে ফতেপুর, বহুরিয়া ও ভাতগ্রাম এবং বাওয়ার কুমারজানী, চৌরঙ্গী বাজার, ডোকলাহাটি, বুড়িহাটীসহ ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক।

এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আওতাভুক্ত এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর বন্যাকবলিত। এসব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে কর্মরত এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে কর্মস্থলে যাচ্ছেন নৌকা ও কলাগাছে ভেলায় করে। তারা নিজেদের উদ্যোগে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও ভেলায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা নৌকায় কর্মস্থল এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। 

উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপি আফরোজা ইসলাম বলেন, বন্যার পানি ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করায় এক সপ্তাহ পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি। এখন পানি মাড়িয়ে ও নৌকায় কর্মস্থলে গিয়ে সেবাদান অব্যাহত রেখেছেন বলে তিনি জানান।

বাওয়ার কুমারজানি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জিয়াসমিন আক্তার বলেন, বন্যা শুরুর আগেই জুলাই মাসে বাওয়ার কুমারজানি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভেতর পানি প্রবেশ করেছে। এরপর থেকেই পার্শ্ববর্তী বাড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। 

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট প্লাবিত ও কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হলেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের দায়িত্ববোধ থেকে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তারা নৌকা ও ভেলায় কর্মস্থলে যাতায়াত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্যাকবলিত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকেও সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন বলে জানান।



সাতদিনের সেরা