kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক

শুকনা গাছগুলো যেন একেকটা মৃত্যুদূত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুকনা গাছগুলো যেন একেকটা মৃত্যুদূত

ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের দুইপাশে সড়ক ও জনপদের রোপণ করা রেইনট্রি কড়ইগাছের মধ্যে অর্ধশত গাছ শুকিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ছে। হালকা বাতাস ও বৃষ্টিতে কিছু শুকিয়ে মারা যাওয়া গাছ হেলেও পড়েছে। অতিবিপদজনক ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২০/২৫টি এবং কম ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত আরো ৩০টি। এ কারণে মহাসড়কে দিনরাত চলাচলকারী ছোট বড় যাত্রীবাহী যানবাহন, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান, সিএনজি ও বাইসাইকেল যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট গেট থেকে কালিকাপুর বাজার পর্যন্ত মহাসড়ক ঘুরে ও চলাচলকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী প্রিন্স তুহিন বলেন, প্রতিদিন ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে কয়েক হাজার ছোটবড় যাত্রীবাহীসহ মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচল করে। এই রাস্তার দুই পাশে থাকা বেশ কিছু রেন্টিকড়ই গাছ শুকিয়ে মারা গেছে। এখন হালকা বাতাসেই ভেঙে পড়ছে। বৃষ্টিতে কিছু মারা যাওয়া গাছ হেলেও বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং সিএনজির মতো ছোট যানবাহনের যাত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

প্রিন্স তুহিন আরো বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে মারা যাওয়া একটি গাছের বড় ডাল ভেঙে রাস্তায় পড়ে। সেই সময় অল্পের জন্য অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি থেকে বেঁচে যান। মহাসড়কে নিরাপদে চলাফেরার জন্য মারা যাওয়া গাছগুলো অতিদ্রুত কর্তৃপক্ষের কেটে ফেলা উচিত।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর দিশারী সভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, মহাসড়কের দুইপাশে থামার শুকিয়ে মারা যাওয়া গাছগুলোর ডালগুলো প্রায় ভেঙে রাস্তার উপর পড়ছে। যেকোনো সময় পথচারীদের ওপর পড়ে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। গাছগুলো দ্রুত কেটে ফেলা উচিত বলে মনে করেন এই সমাজকর্মী।

ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে সিএনজি চালক মনিরুল ইসলাম ও অটোবাইক চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছুদিন আগে মহাসড়কের বহরপুর মোড়ের পূর্বপাশে বৃষ্টির মধ্যে একটি বড় রেন্টিকড়ই জীবিত গাছ উপড়ে পড়ে। এই সময় তারা অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

অটোচালক সোহেল রান ও আকবর হোসেন বলেন, তারাসহ বেশ কয়েকজন চালকের গাড়ির সামনে কয়েকদফা শুকিয়ে মারা যাওয়া গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। প্রাণহানী না ঘটলেও তারাসহ যাত্রীরা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

পাবনা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শাসুজ্জোহা মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, খোঁজ নিয়ে জনসাধারণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুকিয়ে মারা যাওয়া বিপদজনক ঝুঁকিতে থাকা গাছগুলো কেটে ফেলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা