kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আইনমন্ত্রীর হাত ধরে কসবা-আখাউড়ায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৮:৩৮ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আইনমন্ত্রীর হাত ধরে কসবা-আখাউড়ায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

গ্রামের নাম কৃষ্ণনগর। তবে নামের মতো নগরের বালাই নেই ওই গ্রামটিতে। গ্রাম বলতে গ্রামই, একেবারে অবহেলিত। তবে শ্রী কৃষ্ণের অবয়বের আঁধার সম্প্রতি দূর করে বিদ্যুতের আলো। যদিও জেলা কিংবা উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নেই কোনো রাস্তা। শিক্ষার ব্যবস্থাও নেই। অবশ্য গ্রামটিতে লোকসংখ্যা মাত্র দুইশ’র কিছু বেশি। সেই গ্রামের জন্যই হতে যাচ্ছে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেখানে একটি প্রাথমিক স্কুল করার। এ যেন বর্তমান সরকারের গ্রামকে শহর করার উদ্যোগেরই অংশ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পশ্চিম দিকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন গ্রাম কৃষ্ণনগর। গ্রামটির নামও অনেকের জানা নেই। জানতেন না স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে জানা মাত্র গ্রামটিকে ঘিরে তিনি নিয়েছেন নানা পরিকল্পনা। এরই অংশ হিসেবে দুই শতাধিক মানুষের যাতায়তের সুবিধার্থে করে দিচ্ছেন ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু। ইতিমধ্যেই সেতুটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।

আনিসুল হক এম.পি বলেন, ‘আমি নিজেও গ্রামটির নাম জানতাম না। ওই এলাকার মানুষের কাছে গ্রামের নামটি শুনে লজ্জা পাই। আমার এলাকার একটি গ্রামে যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই জেনেও লজ্জাবোধ করি। এলাকার মুরুব্বিদের কথা শুনে সেখানে একটি সেতু করে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।’

জেলার কসবা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম দৌলতপুর। এক সময় গোপীনাথপুর ইউনিনের ওই গ্রামটি ছিলো ‘ভারত নির্ভর’। সেখানকার মানুষ ওপারে আগরতলায় গিয়ে যেমন প্রতিদিন বাজার সদাই করতেন তেমনিভাবে শিক্ষার্থীরাও পড়তেন সেখানকার স্কুলে। অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করতেন আগরতলা গিয়ে। গ্রামটিতে ছিলো না বিদ্যুতের ব্যবস্থা। অনুন্নত যাতায়ত ব্যবস্থার কারণে গ্রামটিতে জনপ্রতিনিধিরাও খুব একটা যেতেন না। সুতারমোড়া গ্রাম থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত যেতে পুরোটাই কাঁচা পথ, আছে দু’টি বাঁশের সাঁকো। প্রায় দুই কিলোমিটার ওই পথটি হেঁটে গেলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ। দৌলতপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করতে সেখানে তিনি ছুটে যান। দলীয় নেতা-কর্মীরা এত দূরের পথে হেঁটে যেতে আপত্তি করলেও সেটা আমলে নেননি ষাট পেরুনো এ মানুষটি। সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তখন রাস্তা নির্মাণেরও নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক ওই গ্রামে যেতে দু’টি সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে কসবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দৌলতপুর গ্রামে যেতে যানবাহনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সেদিন মন্ত্রী মহোদয়কে না যেতে অনেক অনুরোধ করা হয়। তখন তিনি আমাদেরকে বলে সেখানকার লোকজন যদি যেতে পারে তাহলে আমি কেন যেন পারবো না। সেখানে গিয়ে তিনি এলাকার মানুষের দুর্দশার কথা শুনে রাস্তা নির্মাণের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে নির্দেশন দেন। সেখানে রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান আছে। সাঁকোর জায়গায় সেতু হয়ে গেছে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়ার সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য (এমপি)। তাঁর হাত ধরে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় অভাবনীয় উন্নয়ন কাজ হয়েছে। দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আনিসুল হক ওই দুই উপজেলায় অন্তত হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এলাকায় তিনি একজন কাজ পাগল মানুষ হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছেন। এলাকা থেকে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পাওয়া চাহিদার বাইরেও নিজে খবর নিয়ে তিনি অনেক উন্নয়ন কাজ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন এলাকায় আসতে না পেরে তিনি প্রতিনিয়তই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন ও এলাকার সার্বিক খোঁজ নেন।

আখাউড়া পৌর সভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজলের মতে, এলাকার মানুষের ভাগ্য ভালো যে ওনার মতো একজন মানুষকে এম.পি হিসেবে পাওয়া গেছে। নিসন্দেহে তিনি একজন কাজ পাগল মানুষ। তিনি প্রতিনিয়তই উন্নয়ন কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে তাগাদ দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এক কথায় মন্ত্রী মহোদয়ের আমলে মানব ও মানতবার উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের এলাকায় আমুল পরিবর্তন এসেছে। আমার ৫০ বছর বয়সের ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনীতি করি। কিন্তু এমন মানবিক মানুষ পাইনি। আমি মনে করি ওনি আমাদের জন্য আল্লাহর দান।’

আনিসুল হক ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। দ্বিতীয়বার জয়লাভের পরও তাঁর উপরই আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পড়ে। আনিসুল হকের মাধ্যমে প্রায় তিনযুগ পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে নবীনগরের সন্তান হাবিবুল্লাহ খান তথ্য ও বেতার মন্ত্রী ছিলেন। তবে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। আইনমন্ত্রীর বাড়ি কসবা উপজেলার পানিয়ারূপ গ্রামে। তাঁর প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক দেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর।

আনিসুল হকের আমলে কসবা-আখাউড়াবাসীর সবচেয়ে বড় পাওনা শতভাগ বিদ্যুতায়ন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনি কসবা ও আখাউড়া উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসেন। তাঁর সময়ে বিদ্যুতের মিটার পেতে গ্রাহক দুর্ভোগও প্রায় শূণ্যের কোটায় নেমে আসে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য মতে ওই দুই উপজেলাতেই বাড়ির তুলনায় মিটারের সংখ্যা অনেক বেশি। অর্থাৎ এক বাড়িতে একাধিক মিটারও রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থারও অনেক উন্নতি ঘটায় লোডশেডিংও একেবারে নেই বললেই চলে। সাম্প্রতিক সময়ে শুধুমাত্র মেরামত কাজের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়।

আইনমন্ত্রীর আমলে উন্নয়ন কাজের মধ্যে অন্যতম হলো কসবার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুরে মা ও শিশু হাসপাতাল। তিনি গত সাত বছরে ৭০টি’র বেশি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। একাধিক স্কুল কলেজ জাতীয়করণে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তাঁর আমলে আধুনিকায়ন হচ্ছে আখাউড়া, কসবা, আজমপুর ও গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন। যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আখাউড়া ও কসবা স্টেশনে একাধিক আন্ত:নগর ট্রেন যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করেছেন তিনি। আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে আইনমন্ত্রীর প্রচেষ্টায়। হাসপাতালের নতুন ভবনটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আইনমন্ত্রীর আমলে কসবা ও আখাউড়া থানার দৃষ্টি নন্দন ভবন নির্মাণ হয়েছে। আভ্যন্তরীণ যাতায়তে কসবা-আখাউড়া, কসবা-কুটি সড়কসহ অসংখ্য সড়কের উন্নয়ন কাজ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে এক হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন কাজ হয়েছে আইনমন্ত্রী সময়ে। এখানো প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া কসবা উপজেলার ৩৪ টি সড়ক উন্নয়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ও আখাউড়ার নয়টি সড়ক উন্নয়নে প্রায় পৌণে তিন কোটি টাকার কাজের বরাদ্দ এসেছে।

কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে কসবা আখাউড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের আমলে এক হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো এসব কাজ বাস্তবায়নে কোনো ধরণের দুর্নীতি হয়নি। মন্ত্রী মহোদয় যাই করেন সবই খুবই সততার সঙ্গে করেন।’



সাতদিনের সেরা