kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শাহজাদপুরে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা দিতে পারছে না ডাকঘর

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:১৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শাহজাদপুরে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা দিতে পারছে না ডাকঘর

শাহজাদপুর উপজেলা পোস্ট অফিসে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সঞ্চয়পত্রের সুবিধাভোগীরা। অনেক দিন ধরেই বিরাজ করছে এ অবস্থা। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা।

শাহজাদপুর উপজেলা পোস্ট মাস্টার মো. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ডাক বিভাগে নতুন করে আর কোনো সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করায় উপজেলাভিত্তিক ডাকঘরগুলোতে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডাক বিভাগের একাধিক সূত্রে থেকে জানা গেছে, পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশন সঞ্চয়পত্র ও মেয়াদি পাশ বইয়ের মুনাফার টাকা সুবিধাভোগীদের যথাসময় পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মুনাফার টাকা পরিশোধের জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। এ ছাড়া যে সকল সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ এর মধ্যে শেষ হয়েছে সে টাকা পরিশোধ করতেও ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর উপজেলা পোস্ট অফিসে কথা হয় উপজেলার কাকুরিয়া গ্রামের নির্মল চন্দ্র দাসের স্ত্রী স্বপ্নারানী দাসের সাথে। তিনি জানান, শাহজাদপুর উপজেলা পোস্ট অফিসের ৫ লাখ টাকার তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তার একখানা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ গত জুলাই মাসে (ম্যাচিওর) শেষ হয়েছে। এরপর তিনি আর ওই সঞ্চয়পত্র থেকে মুনাফা-লাভ কোনোটাই পাবেন না। একমাস ঘুরছেন তিনি। টাকাগুলো পেলে তিনি একটি প্রয়োজনে লাগাবেন। প্রতিদিন তাকে খালিহাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এরকমভাবে প্রতিদিন সঞ্চয়পত্রের অনেক গ্রাহককেই পোস্ট অফিসে এসে সঞ্চয়পত্রের টাকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আর যারা মুনাফার জন্য ডাকঘরে ভিড় করছেন তাদের মধ্যে দু-চারজন মুনাফার টাকা পেলেও বড় বড় আমানতকারীকে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহদের মুনাফা থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
 
শাহজাদপুর ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আরো জানান, ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পারিবারিক ও পেনশন সঞ্চয়পত্র বিক্রি করায় ডাক বিভাগ টাকার সংকটে পড়েছে। তিনি আরো জানান, ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার সংস্থান না হলে যে সকল সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলোর টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। লোকসান থেকে বাঁচবেন আমানতকারীরাও। 

এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুল লতিফের সাথে মুঠোফোনে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, সব পোস্ট অফিসেই এ ধরনের সংকট বিরাজ করছে। আমরা সংকট উত্তরণের চেষ্টা করছি। 



সাতদিনের সেরা