ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
জানা গেছে, জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহককে। হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল মেশিনারিজ স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ভালো থাকে। আর ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় এসব মেশিনারিজের ক্ষতি হয়। এত বেশি লোডশেডিং দেশের আর কোথাও হয় কি না আমার জানা নেই। মনে হয় বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।’
বাঞ্ছাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী রিফাত আবীর বলেন, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। ২ জুলাই থেকে আমাদের এইসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সকাল, বিকাল ও রাতে যখনই পড়তে বসি তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে আমার মতো পরীক্ষার্থীদের কয়েকদিন আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা ভাবিনি।’
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ব্যবসায়ী সফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার দোকানে বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। ৫-৬ জন ষ্টাফকে বেতন দিতে হয়, তবে কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ বাঞ্ছারামপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘সারা উপজেলায় আমাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৫-২৭ মেগাওয়াট। কুমিল্লার গৌরীপুর সংলগ্ন তিতাস সাবস্টেশনের গ্রিড লাইন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৫-৬ মেগাওয়াট । চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। আশা করছি জুলাই মাসে সরবরাহ বাড়বে। তার জন্য তদবির চলছে।’