kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

যানবাহন উঠলে কাঁপে ব্রিজ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যানবাহন উঠলে কাঁপে ব্রিজ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জনগুরুত্বপূর্ণ পেকুয়া-পাথরঘাটা সড়কের পেকুয়া দক্ষিণপাড়া ব্রিজটির মাঝখানে ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজটির মাঝখানে ভেঙে ও বিভিন্ন স্থানে ফেটে যাওয়ায় জনযান চলছে ঝুঁকি নিয়ে। যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন। ব্রিজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

উপজেলা এলজিইডি অফিস ও এলাকাবাসী জানান, এলাকাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজী করণের লক্ষে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে কেয়ার বাংলাদেশ ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট পাশের এই ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজটি দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর, কটামারা, ইনথখাচালা, বংশীনগর, দিঘীবাড়ি, মুথারচালা ও বালিয়াজানসহ সখিপুর উপজেলার রাজাবাড়ি, দেওয়ানপাড়া, বাজাইল ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া, মুনচালা ও পাগুড়াচালা গ্রামের কয়েক হাজারও মানুষ মির্জাপুর সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানের মানুষ ওই সড়ক দিয়ে কুমুদিনী হাসপাতাল ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে থাকে বলে জানা গেছে।

সড়কটিতে শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা, বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চলাচল করে থাকে। মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল ও লিচু পরিবহনে ভাড়ি যান চলাচল করে। এ ছাড়া এলাকায় উৎপাদিত ধান ও সবজি পরিবহনে নিয়মিত পিকআপ ও ছোট ট্রাক চলাচল করতো।

২ বছর আগে ব্রিজটিতে ফাটল দেখা দিলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠান। প্রতিবেদন পাঠানোর পর দুই বছর পার হলেও ব্রিজটির সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। সম্প্রতি ব্রিজটির মাঝখানে স্লাব ভেঙে রড বেড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে ফেটে দেবে গেছে। যেকোনো যানবাহন ব্রিজটিতে উঠলেই কাঁপতে থাকে। ব্রিজটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে এলজিইডি অফিস সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রিজটির মাঝখানে ভেঙে রড বেড়িয়ে আছে। এ ছাড়া ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে ফেটে দেবে গেছে। এরপরও ব্রিজটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে জনযান চলাচল করছে। যেকোনো যানবাহন ব্রিজটিতে উঠলেই কাঁপতে থাকে।

ব্রিজটি দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে পারলেও মাঝারি ও ভাড়ি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে ওই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী হাট বাজারে আনা-নেওয়া করতে পারছেন না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মালেক মিয়া বলেন, বাঁশতৈল হাট থেকে বেগুন কিনে এলাকায় ব্যবসা করেন। এই রাস্তা ছাড়া চলাচলের আর রাস্তা না থাকাই ঝুঁকি নিয়েই যেতে হয়। আগে পিকআপে মাল আনা নেওয়া করতাম। এখন ভ্যানে নিতে হয়। এতে তার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান।

শিরঘাটা গ্রামের সুলতান মিয়া জানান, পেকুয়া থেকে পাথরঘাটা হয়ে মির্জাপুরের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। আর পেকুয়া থেকে গোড়াই হয়ে মির্জাপুরের দুরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। দূরত্ব কম থাকায় সময় বাঁচাতে আগে এই সড়ক দিয়ে অনেক গাড়ি চলাচল করতো। এতে জনযানের ঝুঁকিও কম ছিল। ব্রিজটি ভাঙার কারণে জনযান চলাচল কমে গেছে। তাদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে।

বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন জানান, সময় বাঁচাতে ও ঝুঁকি এড়াতে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নসহ সখিপুর উপজেলা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানের মানুষ পেকুয়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে মির্জাপুর সদরে চলাচল করে থাকে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পেকুয়া ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানান তিনি।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিক মিয়া জানান, গত ২ বছর আগে ব্রিজটিতে ফাটল দেখা দিলে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে সরজমিন পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তখন স্লাবটি ভালো ছিল। ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সরজমিন পরিদর্শন শেষে পুনরায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা