kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

অতিবৃষ্টিতে আমন বীজতলা নষ্ট, চড়া দামে চারা কিনছেন বামনার কৃষকরা

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৪:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অতিবৃষ্টিতে আমন বীজতলা নষ্ট, চড়া দামে চারা কিনছেন বামনার কৃষকরা

উপকূলীয় এলাকায় চলছে আমন ধান রোপণের মৌসুম। এ বছর অতিমাত্রায় ভারি বর্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার কারণে বরগুনার বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমনচাষিদের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। জমি অনাবাদি থাকার ভয়ে চড়া মূল্যে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে আমন ধানের চারা সংগ্রহ করে কৃষকরা তাদের জমিতে রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ধানের চারা সংগ্রহে নানা বিড়ম্বনার কারণে এ উপজেলার কৃষকরা চলতি আমন মৌসুমে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন, তেমনি যথাসময়ে চারা সংগ্রহ করতে না পেরে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

উপজেলার একাধিক আমনচাষি জানান, উপজেলায় কোনো বিএডিসির ডিলার না থাকায় স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমনবীজের চাহিদাকে পুঁজি করে পার্শ্ববর্তী জেলা, উপজেলা থেকে আমনবীজ এনে চড়া দামে বিক্রি করছেন। 

এবার দ্বিগুণের বেশি দামে বিপন্ন কৃষককে ধানের চারা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার খালগুলোতে ঝাউ ও গড়া দিয়ে খালে নাব্যতা সৃষ্টির ফলে মৌসুমি ভারি বর্ষণ ও অতিজোয়ারের ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তাই খালগুলো দখলমুক্ত হলে তারা জলাবদ্ধতায় এত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে জানাচ্ছেন।

বামনা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিরামহীন ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় উপজেলার মোট ৫৬০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলার ৩৫০ হেক্টর ও ২০০ হেক্টর শাকসবজির জমির মধ্যে ১৩০ হেক্টর জমির বীজ ও সবজিক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে উপকূলের নিচু জমিতে বিএডিসির ব্রি-৫২, ব্রি-৭৬ ও ব্রি-৭৭ ধানের ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু বামনা উপজেলায় বিএডিসির কোনো ডিলার না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা অন্য জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করার অজুহাত দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। ঝালকাঠি ও নলছিটি থেকে আমন চারা কৃষকের কাছ থেকে বিনা মূল্যে এনেও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী বীজসংকটের অজুহাত দেখিয়ে গোপনে চড়া দামে এসব ধানের চারা বিক্রি করছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করছেন।

বামনা সদর ইউনিয়নের চাষি রুবেল, রামনার মজিদ মিয়া, বুকাবুনিয়ার কাঞ্চন মিয়া ও ডৌয়াতলার পুলিন, সুনিল ও সজল জানান, সম্প্রতি বর্ষার জলাবদ্ধতায় তাদের ধানের পাশাপাশি সবজি আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবজি বাগানে নতুন করে চারা লাগানোর কোনো উপযুক্ত মাটি নেই। চাষিরা জানান, তারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে চড়া মূল্যে (চার হাজার টাকা পোন) আমন ধানের চারা সংগ্রহ করেছেন। চারার দাম বেশি হওয়ায় এ বছর অনেক আমন চাষের জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কাই বেশি।

বামনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্তী এদবর বলেন, সম্প্রতি অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার ফলে আমনের বীজতলা ও সবজি বাগানের ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করেন। কৃষক এ মুহূর্তে বীজধান নিতে আগ্রহী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে সামনের রবি মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সবজিচাষিদের মধ্যে বীজ ও সার দ্রুত প্রদান করা হবে। তিনি আরো বলেন, ডিলার না থাকায় চাষিদের উচ্চ দামে পার্শ্ববর্তী জেলা, উপজেলা থেকে বীজ ধান সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে বীজ ডিলার নিয়োগ করা গেলে এ কৃত্রিম সংকট থাকবে না।



সাতদিনের সেরা