kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

বশেমুরবিপ্রবি'র প্রভোস্টকে নিয়ে ফেসবুকে শিক্ষার্থীর পোস্ট, ব্যাখ্যা চাইলো প্রশাসন

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বশেমুরবিপ্রবি'র প্রভোস্টকে নিয়ে ফেসবুকে শিক্ষার্থীর পোস্ট, ব্যাখ্যা চাইলো প্রশাসন

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সদ্য বিদায়ী প্রভোস্ট শামস আরা খাঁন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বষের্র ইয়ামিনুল হাসান আলিফের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা সাথে জড়িত। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সদ্য বিদায়ী প্রভোস্ট এবং ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব শামস আরা খাঁনের বিরুদ্ধে গত ৩১/০৮/২০২১ তারিখে কিছু বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করেছেন, যা তার শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের কারণ হয় দাঁড়িয়েছে। সুতরাং এহেন পোস্টের কারণ তথ্য-উপাত্তসহ, পত্র প্রাপ্তির তিন (০৩) কার্য দিবসের মধ্যে আপনার লিখিত জবাব নিম্নস্বাক্ষরকারীর দপ্তরে প্রদানের জন্য বলা হলো।'

শিক্ষক শামস আরা বলেন, গত ৩০ আগস্ট রাতে বঙ্গমাতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পরিচয়ে একটি মেয়ে আমাকে ফোন করে জানায় তার একজন রুমমেট ২৯ আগস্ট হলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে গিয়ে তাকে জানিয়েছে, তাদের রুমে চুরি হয়েছে। আমি তাকে বলি, তারা যেনো কি কি চুরি হয়েছে তার বিবরণসহ একটি লিখিত অভিযোগ অফিসে দেয় এবং রুম পরিদর্শন করার জন্য রুমের চাবি নিয়ে হলে আসে। উত্তরে মেয়েটি জানায় তার কি চুরি হয়েছে সেটা সে এখনও জানে না আর এই মুহূর্তে তাদের আসা সম্ভব না, সে শুধু হল কর্তৃপক্ষকে একটু সতর্ক হওয়ার জন্য বলতে চাচ্ছে। কিন্তু ৩১ আগস্টে কে এম ইয়ামিনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে, বঙ্গমাতা হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ করা হলেও তিনি চুরির দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপাতে চেয়েছেন। এছাড়া ওই শিক্ষার্থী আরও দাবি করেন বঙ্গমাতা হলের শিক্ষার্থীরা আমার অপসারণ/পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি।

এই শিক্ষক বলেন, আমি বর্তমানে প্রায় ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় রয়েছি। এমতাবস্থায় গত ২৬ আগস্ট আমি মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করি এবং ৩১ তারিখে যখন আমাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনসহ দায়িত্বমুক্ত করার কথা সেই দিনই আমার অপসারণ দাবি করা হচ্ছে। এমন বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেখে আমি মানসিক চাপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এক কথায় এই ঘটনার কারণে আমাকে এবং আমার অনাগত সন্তানকে শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

চুরির অভিযোগ বিষয়ে অভিযোগকারী রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বষের্র শিক্ষার্থী ইভা আক্তার স্বর্ণা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমাদের রুমের এক শিক্ষার্থী কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে হলে যায়। তার কাছে চাবি না থাকায় সে আমাদের অনুমতি নিয়েই তালা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে। এরপর তার কাছ থেকে চুরির বিষয়টা জানতে পারি এবং বিষয়টি প্রভোস্ট ম্যামকে জানাই। আমাদের রুমের চারজনেরই পারবারিক এবং একাডেমিক কারণে ব্যস্ত থাকায় আমাদের পক্ষে গোপালগঞ্জ এসে কী কী চুরি হয়েছে সেটি নিশ্চিত করা কিংবা লিখিত অভিযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আমরা মূলত ম্যামকে অভিযোগটি জানিয়েছিলাম যাতে প্রশাসন আরও সতর্ক হয়, আর কোনো চুরির ঘটনা না ঘটে এবং আমাদের কক্ষেরই কোনো শিক্ষার্থীর ওপর দায়ভার না আসে।

প্রভোস্টের অপসারণ চেয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এ ধরনের কিছু বলিনি। আমরা শুধুমাত্র চেয়েছি চুরির ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

অন্যদিকে, হল প্রভোস্ট শামস আরা খানের অপসারণ বা পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কোনো শিক্ষার্থীরা দাবি জানায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপরেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন। প্রভোস্টের অপসারণ বা পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আন্দোলনও করতে দেখা যায়নি। এছাড়া বঙ্গমাতা হলের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমন কোনো দাবির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কে এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফের বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পোস্টটি লিখেছি এবং এ সংক্রান্ত সকল প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমি সকল প্রমাণ প্রশাসনের নিকট উপস্থাপন করবো।

প্রভোস্টকে অপসারণের দাবির বিষয়ে আলিফ বলেন, এই হলে প্রায় ৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে একাধিকজনের বক্তব্য নিয়েই আমি এটা লিখেছি। যেহেতু তারা নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয় তাই আমি তাদের নাম প্রকাশ করিনি।



সাতদিনের সেরা