kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ধুনটে যমুনার পানি চুইয়ে বাঁধ ভাঙার শঙ্কা, রক্ষার চেষ্টা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি    

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৩:৩৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধুনটে যমুনার পানি চুইয়ে বাঁধ ভাঙার শঙ্কা, রক্ষার চেষ্টা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সেখানে ফুঁসছে যমুনা। পানি বেড়ে শুক্রবার সকালে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সাথে প্রবল চাপে চুনিয়াপাড়া-দড়িপাড়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চুইয়ে লোকালয়ে যাচ্ছে পানি। 

পানির চাপ আরো বাড়লে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙন আতঙ্কের কিছু নেই। পানি চুয়ানোর স্থানে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালানো হয়েছে। 

জানা গেছে, এ উপজেলায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যমুনার পানি বাড়ার সাথে স্রোতও বেড়েছে। প্রবল চাপে বাঁধের চুনিয়াপাড়া-দড়িপাড়া পয়েন্ট দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে সেই পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ইঁদুরের গর্ত (র‍্যাটহোল) এবং দুর্বল অংশে পানি চুইয়ে (সিপেস) পড়ার কারণে বাঁধ ক্রমশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। লোকালয় অংশের (কান্ট্রি সাইড) চেয়ে নদীমুখ অংশের (রিভার সাইড) পানি উচ্চতায় প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধ ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

বাঁধটি ভেঙে গেলে যমুনার প্লাবনে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাসহ, বগুড়া জেলার ধুনট, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সোনাতলা, শেরপুর উপজেলাসহ বগুড়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বন্যাক্রান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, বাঁধে ইঁদুর গর্তের সৃষ্টি করেছে। সেখান দিয়ে পানি চুইয়ে অপর পাশে যাচ্ছে। এ কারণে বাঁধের ওই স্থান জরুরিভাবে মেরামত করা হচ্ছে। বাঁশের পাইলিং করে বালিভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পানির লেভেল আর না বাড়লে বাঁধটি রক্ষা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পানির লেভেল আরো বেড়ে গেলে বাঁধ রক্ষা করা দুরূহ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ইঁদুরের অসংখ্য গর্ত থাকার পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে পানি চোয়ানো শুরু হয়েছে। পানি আটকানোর জন্য বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পুরো বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা