kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভাতার টাকা যাচ্ছে কোথায়?

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাতার টাকা যাচ্ছে কোথায়?

নরসিংদীর রায়পুরায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পেতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট খোলেন উপকারভোগীরা। ডিজিটাল এ মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়াসহ তথ্যগত ত্রুটি ও টাকা পেতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ভিড় করতে দেখা গেছে ভাতাভোগীদের।

পলাশতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা তানভীর মান্নান ও শরীফা বেগম জানান, নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতা ৪ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্যাশ আউটের আগেই ওই টাকা অন্য কেউ সরিয়ে নিয়েছে। তারা জানান, পলাশতলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই নগদ অ্যাকাউন্ট দুটি খোলেন। ওই সময় নগদের প্রতিনিধিদের দেওয়া অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর পরে আর পরিবর্তন করেননি তারা। এই সুযোগে একটি চক্র ওই পিন নম্বরগুলো ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে মৌখিক অভিযোগ করেও টাকা ফেরত পাননি বলে জানান তানভীর ও শরীফা। 

অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর হোসেন বলেন,  এই বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। যদি কেউ এ ঘটনায় জড়িত থেকে থাকে তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এবং যত টাকা তছরম্নপ হয়েছে। তা ফেরত দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নগদ প্রতিনিধিরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় গিয়ে ওই এলাকার উপকারভোগীদে নামে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। এ কাজে তাদের সহযোগিতায় ছিলেন সমাজসেবা অফিসের একজন মাঠকর্মী। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নগদ প্রতিনিধিদের দেওয়া পিন নম্বর পরে আর পরিবর্তন করেননি এবং ভুলে গেছেন অনেক উপকারভোগী। এতে ঘটেছে বিপত্তি। এ সুযোগে একটি চক্র অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে পিন নম্বর ভুলে যাওয়ায় ক্যাশ আউট করতে এসে ভোগান্তিতে পড়েন ভাতাভোগীরা। নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার পর এখনো টাকা পাননি এমন অভিযোগই বেশি বলে জানা গেছে। 

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে বয়স্কভাতা ১৭ হাজার ৮১৯ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা ৯ হাজার ৩৬৫ জন, বিধবাভাতা ৭ হাজার ২৪৬ জন, শিক্ষা উপবৃত্তি ২৫৩ জন, দলিত ও হরিজন ভাতা ৬৬ জন, কৃষি উপবৃত্তি ৫২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ ভাতা পান ১০ জন।

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। অপর ভাতাভোগীরা আগের নিয়মেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে টাকা উত্তোলন করেন।

খোদেজা, আবেদা ও জায়েদা নামের তিন বৃদ্ধা পান বিধবাভাতা। তারা জানান, আগে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট হলে ব্যাংক থেকে সময় মতো ভাতার টাকা পেতেন। কিন্তু নগদ-এ অ্যাকাউন্ট খোলার পাঁচ মাসেও টাকা পাননি। এতে অর্থাভাবে তাদের দিন কাটতে কষ্টে। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান তারা।

রায়পুরা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সজীব বলেন, ভাতার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কেউ সরিয়ে নিয়েছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাননি তিনি। অভিযোগ পেলে নগদ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আর যদি ভাতাভোগীদের অজানতেই টাকা ক্যাশ আউট হয়ে থাকে। তবে নগদ তা যাচাই বাচাই শেষে প্রমাণিত হলে টাকা রিফান্ড দেবে। 

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, উপকারভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ সমাজসেবা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যেন দ্রুত তারা এখানে একটি নগদ কাস্টমার কেয়ার চালু করেন এবং তথ্য সংশোধন ও উপকারভোগীদের টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।   



সাতদিনের সেরা