kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জে যমুনার সব পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৫৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিরাজগঞ্জে যমুনার সব পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

সিরাজগঞ্জ জেলায় যমুনা নদীর সবকটি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া একই সময় বাঘাবাড়ী পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পয়ে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) গজ রিডার আব্দুল লতিফ ও খন্দকার সুলতান মাহমুদ এই সকল তথ্য জানান।

পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার চারটি উপজেলাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক জলাধার চলনবিলসহ ইছামতি, করতোয়া, ফুলজোড় ও বড়াল নদীর পানি বেড়েই চলেছে। সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর ,বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নদী তীরবর্তী নিমাঞ্চল ও চরাঞ্চল পানিতে ডুবে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন লক্ষাধিক মানুষ। দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে বাড়িঘরে পানি ওঠায় চরাঞ্চলের পানিবন্দি বন্যার্ত মানুষরা নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচাল করে বসবাস করছেন। জ্বালানীর অভারে রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। অনেকেই আবার নিকট আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে কিংবা পার্শ্ববর্তী উঁচু সড়কের ওপরে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় নদী ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষরা। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি, বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। কাজিপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ  শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলাসহ এনায়েতপুরের যমুনা নদী তীরবর্তী অঞ্চলজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।

এদিকে, পানিতে আউশ ধান, পাট এবং সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গো-চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ জানান, গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিমাঞ্চল ও চরাঞ্চলের চারহাজার ৩৬২ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। 



সাতদিনের সেরা