kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

প্রকাশ্যে ঘুরছে খুনিরা, জামিনে বেরিয়েই হুমকি-ধামকি

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি    

২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রকাশ্যে ঘুরছে খুনিরা, জামিনে বেরিয়েই হুমকি-ধামকি

বাম থেকে মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান এবং শাহজালাল প্রধান

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নাজিম উদ্দিন ভূইয়া হত্যা মামলার আসামিরা পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। মামলার বাদীসহ নিহতের স্বজনরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে, নিহতের স্ত্রী ও মেয়ে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বার্মাস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অকিল উদ্দিন ভূইয়ার সাথে একই এলাকার শাহ আলম চেয়ারম্যানের ছেলে মামুন প্রধানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান, শাহজালাল প্রধান, আনোয়ার হোসেন, মনির হোসেন, নূর নবী, সাহারা খাতুন, আওলাদ হোসেন, আবু তাহেরসহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পিটিয়ে অকিল উদ্দিন ভূইয়ার ভাই নাজিম উদ্দিন ভূইয়াকে মারাত্মকভাবে আহত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজিম উদ্দিন ভূইয়া হাসপাতালে মারা যান। নিহতের ভাতিজা আলামিন ভূইয়া বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। সম্প্রতি হত্যা মামলার আসামি মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান ও শাহজালাল প্রধান জামিনে বের হয়ে এসে মামলার বাদীসহ নিহতের পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদান করছেন। এতে নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার স্ত্রী সনিয়া আক্তারের সাথে। কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। কোনো রকমে বেঁচে আছি। একটি মেয়ে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে স্বামী হত্যার বিচার পাওয়ার আসায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার একমাত্র শিশু সন্তান নুফিজা ভূইয়া বলে, আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে তাদের শাস্তি হোক। আব্বু আমাকে কত আদর করত, আমার জন্য কতকিছু নিয়ে আসতো। আমার বান্ধবীদের বাবারা অনেক জায়গায় তাদেরকে ঘুরতে নিয়ে যায়, আমার বাবা নাই বলে আমি কোথায়ও ঘুরতে যেতে পারি না। এ কথা বলতেই শিশুটির চোখ ভিজে যায়। 

নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার শাশুড়ি লাকি বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, যারা আমার মেয়ের জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে। মেয়ের জামাই মারা যাওয়ার পর কোনো স্বজনরা আমার মেয়ে ও নাতনীর খবর নিতে আসেননি। কতরাত আমার মেয়ের চোখের জলে কেঁটেছে আমি মা হয়ে নীরবে তা দেখেছি। 

মামলার বাদী আলামিন ভুইয়া কালের কণ্ঠকে জনান, মামলার আসামিরা এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। জামিনে বের হয়ে এসে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, তেল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে। তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, মামলার আসামিদের যাতে করে ফাঁসি হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদনাইল এলাকার একাধিক ব্যক্তি কালের কন্ঠকে জানান, মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান, শাহজালাল প্রধানসহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী জামিনে ফিরে এসে পুরো এলাকায় পূর্বের ন্যায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছে। যে কটা দিন জেলে ছিল এলাকাটি শান্তিতে ছিল। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাকে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা না হলে নাজিম উদ্দিন ভূইয়ার মতো আরো অনেক মায়ের কোল খালি হতে পারে বলে ধারণা তাদের।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, নাজিম উদ্দিন ভূইয়া হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে রয়েছেন। যদি আসামিরা নিহত পরিবারের কাউকে হুমকি ধামকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম কালের কণ্ঠকে জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নাজিম ভূইয়া হত্যা মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আসামিরা এলাকায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য আসামিরা নজরদারিতে রয়েছে। 

এ বিষয়ে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা কালের কণ্ঠকে জানান, হত্যা মামলার আসামিরা কোনভাবেই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারবে না। যদি অভিযোগ পাই তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। 



সাতদিনের সেরা