kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রলারডুবি: বিআইডব্লিউটিএ’র পাঁচ মতামত, সাত সুপারিশ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০১:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রলারডুবি: বিআইডব্লিউটিএ’র পাঁচ মতামত, সাত সুপারিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কমিটি। বুধবার নাগাদ ৩০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এসব সাক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় মাথায় রেখে তাঁরা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল ও কিছু সুপারিশ উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনা পরবর্তী নিরাপদ নৌযান চলাচলের বিষয়ে পাঁচ দফা মতামত ও সাত দফা সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধানের কাছে এসব মতামত ও সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। 

মতামত ও সুপারিশ বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মো. শহীদ উল্যাহ তাঁর ১২ দফা মতামত ও সুপারিশটি গত ২৯ আগস্ট লিখিতভাবে তুলে ধরেন। পাঁচ দফা মতামতে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বলা হয়, ‘আনন্দবাজার থেকে চম্পকনগর নৌ-পথটি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক সংরক্ষিত নৌ-পথ নয়। এই নৌ-পথে যে সকল চলাচল করা নৌযান নিবন্ধিত নয়।’

সাত দফা সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, ‘উল্লেখিত পথে একতলা লঞ্চ চলাচল করা যেতে পারে। ওই পথে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই রোধে ও অবৈধ নৌ-যান চলাচল বন্ধে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও একজন ট্রাফিক সুপারভাইজার পদায়ন করা যেতে পারে। সকল নৌযানকে নিবন্ধনের আওতাভুক্ত করা যেতে পারে।’

দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে এসেছে ট্রলার ডুবির ঘটনায় বেশ কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডুবে যাওয়া ট্রলারের অদক্ষ চালকের ভুল, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, সময় মেনে চলতে গিয়ে দ্রুত চালানো, ট্রলারে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি। তদন্ত কমিটি এসব বিষয়কে মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল রেজা জানান, দুর্ঘটনার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া যাত্রীসহ ৩০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সকল তথ্য মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ট্রলারের মাঝি অদক্ষ ও এতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন জানান, একাধিক বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী ট্রলারটি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে চম্পকনগর ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পর ছেড়ে যায়। এতে গন্তব্যস্থল পৌঁছতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখা দেয়। ট্রলারে লাইফ সাপোর্টের কোনো সরঞ্জাম ছিলো না। পরবর্তীতে দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদন কিছু সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২৭ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে বিজয়নগরে চম্পকনগর বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজার আসার পথে লইসক্যা বিলে ট্রলারডুবি হয়। বিপরীত দিকের একটি বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে ২৩ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বালুবাহী ট্রলারের চালকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মামলা হলে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। 



সাতদিনের সেরা