kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

চিতলমারীর নদী-খালে মাছের সর্বনাশ ভেসাল জালে

• আইনে শাস্তি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড • বিকল্প স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দরকার

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিতলমারীর নদী-খালে মাছের সর্বনাশ ভেসাল জালে

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি জলাশয়ে অবৈধ ভেসাল জালসহ নানা উপকরণ দিয়ে মাছের অবাধ বিচরণে বাধা সৃষ্টি ও প্রাণনাশ করা হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এভাবে মাছ শিকার আইনে নিষিদ্ধ হলেও তা কেউ মানছেন না। বিকল্প স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় মাছ শিকারিরা ঘুরেফিরে এ কাজ করেন। ফলে মাঝেমধ্যে প্রশাসনের প্রচার বা অভিযান কোনো কাজে লাগে না। প্রায় এক হাজার দরিদ্র মাছ শিকারির জন্য বিকল্প স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে উপকার হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কমকর্তা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভেসাল জাল, পাটা ও দোয়াড়ের ফাঁসে ছোট-বড় সকল ধরনের মাছ আটকা পড়ে। মাছের পাশাপাশি শামুক, শামুকের ডিম, গুড়িশামুক, গুড়ি ঝিনুক, সাপসহ পরিবেশের জন্য উপকারী নানা প্রাণী বিনষ্ট হচ্ছে। এতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। চিতলমারী উপজেলায় মরা চিত্রা, বলেশ্বর, মধুমতি নদীর 'হক ক্যানেল' প্রায় অর্ধশত নদী, খাল রয়েছে। এখানে ভেসাল, বাঁশের পাটা, দোয়াড়সহ নানা উপকরণ দিয়ে গতিপ্রবাহ আটকে দেশি মাছ শিকার করা হচ্ছে। চিতলমারী থেকে বাবুগঞ্জ, কুড়ালতলা বলেশ্বর নদী; বাখেরগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী মরাচিত্রা নদী এবং বাখেরগঞ্জ বাজার থেকে খিলিগাতী মরা চিত্রা নদী, নালুয়া থেকে বড়গুনি হক ক্যানেলে পাতা হয় ভেসাল। একই অবস্থা শৈলদাহ, শ্রীরামপুর, ডুমুরিয়া, খড়িয়া, আড়ুলিয়া, কলিগাতী, বারাশিয়া, হিজলা, খাসেরহাটসহ উপজেলার খালগুলোয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্দিষ্ট কিছু লোক বেআইনিভাবে নদীখালের দেশি মাছ শিকার করে মাছসহ পরিবেশের ক্ষতি করছে। তারা এটা বন্ধের দাবি জানান।

অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিকারি জানান, মাছ ধরা ছাড়া তাদের জীবিকা নির্বাহের আর কোনো উপায় নেই। কাজটি অন্যায় জেনেও করতে হচ্ছে। ভেসাল জাল, পাটা, দোয়াড় উঠিয়ে দিলে প্রায় দুই হাজার সাত শ নিবন্ধিত মৎস্যজীবী কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলে তারা দাবি করেন। তাই বিকল্প স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, ভেসাল জাল, পাটা, দোয়াড় ধরণের মাছ শিকারি উপকরণ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব উপকরণ ব্যবহার ও উৎপাদন হতে বিরত থাকার জন্য প্রায়ই প্রচারণা ও অভিযান করা হয়। কিন্তু দরিদ্র মানুষেরা পুনরায় ক্ষতিকর ওই কাজে লিপ্ত হন। চিতলমারী উপজেলার প্রায় এক হাজার দরিদ্র মাছ শিকারির জন্য বিকল্প স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে তা অত্যন্ত মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হবে।

মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান, মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী, সরকারি জলাশয়ে মাছের অবাধ বিচরণে বাধা সৃষ্টিকারী ও মাছের প্রাণ নাশকারীদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।



সাতদিনের সেরা