kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ১৮:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি  স্থিতিশীল থাকলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৬ থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি স্থিতিশীল রয়েছে। সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীসহ নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জেলার চলনবিল, ইছামতি, করোতায়া, ফুলজোড় ও বড়াল নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ৫৯ বছর পরে সিরাজগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালিতে যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করেছে।

বসতবাড়িতে পানি ওঠায় ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই বাঁধ ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে সেপ্টম্বরের ২ তারিখ তারিখ পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলার চৌহালী ও এনায়েতপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। একদিনের ভাঙনে চৌহালী উপজেলার খাসপুকুরিয়া থেকে বাগুটিয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটারব্যাপী অন্তত ২০টি বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন কবলিত এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা সরিয়ে নিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

যমুনার পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাঐতারা পয়েন্টের জলকপাট ছেড়ে দেওয়ায় দীর্ঘদিন পর শহরের ঐতিহ্যবাহী কাটাখালিসহ ইছামতি নদীতে পানি প্রবেশ করেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, কাটাখালীতে যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করায় শহরের আবর্জনা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে শহরবাসী মুক্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, যমুনা নদীতে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার বিষয়ে সার্বিক প্রস্ততিসহ নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ করে নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজন মতো তা বিতরণ করবেন। এ ছাড়াও জেলায় ৭৬ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা