kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

দামুড়হুদায় ৮০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে, ব্যাপক ক্ষতি

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ১৩:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দামুড়হুদায় ৮০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে, ব্যাপক ক্ষতি

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে দামুড়হুদার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতে পানি জমে আউষ,আমন ধান ও সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৫দিনের টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় আউষ, আমন ধান ও সবজির এমন ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে উপজেলায় ৯হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আউষ,৬হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের ও ২৭০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।

গত ৫ দিনের টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় উপজেলা সদর, পুরাতন,নতুন বাস্তপুর,কার্পাসডাঙ্গা,কুড়ুলগাছি,হাউলি,পুড়াপাড়া,নতিপোত গ্রামের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির আধাপাকা আউষ ধান মাটিতে হেলে পড়েছে। আধাপাকা ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় এসব ধানের অর্ধেক পরিমান চিটা হয়ে যাবে। এতে ধানের ফলন অর্ধেক পরিমান কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও ৬হাজার ৯৮৫ হেক্টর আমন ধানের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ২/১দিনের মধ্যে এসব জমি থেকে পানি না সরে গেলে এসব ধান পচে নষ্ট হয়ে যাবে।এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের লাউগড়া বিলে জলবদ্ধতার কারনে প্রায় দেড় শতাধিত বিঘা জমির আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে। দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদুরে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কে পানি নিস্কাসনের জন্য একটি মাত্র কালভাট রয়েছে। কতিপয় ব্যক্তি ঐ স্থানে ব্যবসা

প্রতিষ্টান গড়ে তোলায় মাটি ভরাট করার কারনে কালভাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলবদ্ধতার কারনে ওই মাঠের প্রায় দেড় শতাধিত বিঘা জমির আমন ধান পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এছাড়াও উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে বেগুন,চিচিৎঙ্গা,মিষ্টি কুমড়া,সিম,ঝালসহ বিভিন্ন ধরনের সবজীর চাষ হয়েছে। টানা বর্ষনের কারনে প্রায় ২০ হেক্টর জমির স্বজীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা সদরের পিন্টু হোসেন ও জান মোহাম্মদ বলেন, লাউডগার বিলে তাদের দুই জন দুই বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছে ধানের গাছ ও খুব ভালো হয়ে ছিল। প্রায় ৫দিনের টানা বৃষ্টিতে তাদের ধান পানিতে হাবু ডুবু খাচ্ছে। কালভাটটি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে পানি বের না হতে পারায় তাদেরসহ মাঠের প্রায় ১৫০ বিঘা জমির আমন ধান ডুবে গেছে। ২/১ দিনের মধ্যে পানি কমলে কিছু ধান পাওয়া যাবে না হলে পানিতে ডুবে থাকা ধান গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

উপজেলার পুরাতন বাস্তপুর গ্রামের চেচো গাড়ির মাঠে প্রায় ২০০বিঘা জমির আধাপাকা আউষ ধান পানিতে ডুবে গেছে। পুরাতন বাস্তপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, চেচো গাড়ির মাঠে তার ২৫ কাঠা জমিতে আউষ ধান চাষ করেছে। ধান প্রায় পেকে গেছে। কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে পুরা মাঠের ধান ডুবে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে বুক সমান পানি থেকে আধাপাঁকা ধান কেটে ফেলতে হচ্ছে। ফলে এবার ধানের ফলন অনেক কমে যাবে।

পার দামুড়হুদার চাষি শাহাজামাল বলেন, দেউলির মাঠে দুই বিঘা জমিতে আউষ ধান লাগানো হয়েছে, ধান খুব ভালো হয়েছে প্রায় পেকে গেছে দিন ১৫ পরে কাটা যাবে। কিন্তু টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধান মাটিতে হেলে পড়েছে। এতে করে ধানে চিটা হয়ে ফলন প্রায় অর্ধেক কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আগাম আউষ ধানের খুব বেশি ক্ষতি না হলেও একটু দেরিতে লাগানো ধানগুলো মাত্র ফলতে শুরু করেছে। টানা বর্ষণ ও হাওয়ায় মাটিতে হেলে পড়ে যাওয়া এমন ধানের ফুল ঝরে পড়ে ধানে চিটা হয়ে ফলন কমে যাবে। ডুবে যাওয়া আমন ধানগুলো পানি সরে গেলে তেমন একটা ক্ষতি হবে না।



সাতদিনের সেরা