kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

একই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ দুই রকম!

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ০২:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ দুই রকম!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার হাবিবপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট দুইবারে দুই ধরনের পাওয়া গেছে। পরে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে আগের রিপোর্টটি ভুল বলে প্রমাণিত হয়। 

জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র সিয়াম ইউনিক কার্ডের জন্য মোগরাপাড়া চৌরাস্তার মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত ৬ মে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় তার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ আসে। সিয়ামের রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ কিনা নিশ্চিত হতে একই ক্লিনিকে রবিবার আবার রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে। রবিবার তার রক্তের গ্রুপ বি-পজিটিভ বলে ক্লিনিক শনাক্ত করে। পরে বিষয়টি আরো নিশ্চিত করতে স্থানীয় আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করলে বি-পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়। এতে সিয়াম ও তার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু হানিফ বলেন, দুটি রিপোর্ট একই হাসপাতালে করা, দুই রিপোর্টই টেকশিয়ান রুবেল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষর করা আছে। ছাত্র একই গ্রুপ নির্ণয়কারী টেকনোলজিস্ট এবং ডাক্তার একই ব্যক্তি কিন্তু দুইবারে দুই রকম গ্রুপ শনাক্ত করা মারাত্মক ভুল। এ রিপোর্টের কারণে যে কারো জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে।

মা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি (রিপোর্ট) ভুল ছিল না। টেকনিশিয়ানরা মোবাইলে ব্যস্ত থাকার কারণে প্রিন্ট করতে ভুল করেছে। তিনি আরো বলেন, ডা. জিয়াউর রহমান অবসরে আছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বেসরকারি শতাধিক হাসপাতালের প্যাডে মাসে একবার এসে নিজে সই করে চলে যান। এ বিষয়টা দেখেন ল্যাব টেকনিশিয়ান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, ডা. জিয়াউর রহমানের প্যাডে নারায়ণগঞ্জসহ শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল রিপোর্ট করে। তিনি প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ শ স্বাক্ষর করা প্যাড রেখে যান প্রতি স্বাক্ষরের জন্য তিনি ১০ টাকা করে নেন। 

ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘রক্তের গ্রুপ পরিক্ষায় ভুল হওয়ার কথা নয়। হয়তো ল্যাব টেকনোলজিস্টরা ভুল করেছে। এ ব্যাপারে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার সাহা বলেন, ‘রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন হয় না। একই রোগীর রক্ত পরীক্ষা দুই ধরনের রিপোর্টে একটি মারাত্মক ভুল।'



সাতদিনের সেরা