kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

মা-ছেলেকে অপহরণ : লুৎফরকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৯ আগস্ট, ২০২১ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মা-ছেলেকে অপহরণ : লুৎফরকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ

মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলমের বাবা লুৎফর রহমানকে আত্নগোপন থেকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে বাড়িতে পৌছে দিয়েছে পুলিশ। আজ রবিবার দুপুরে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দিনাজপুর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, স্ত্রী ও পুত্রকে অপহরণের ঘটনার পর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুৎফর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে দিলে আমরা আদালতের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এর মধ্যে তিনি বাড়িতে ফিরে গেছেন। এর আগে গতকাল শনিবার লুৎফর রহমানকে আত্মগোপনে থাকা থেকে উদ্ধার করে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ। পরে তাকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ভয়ে আত্মগোপনে থাকা কোনো ব্যক্তিকে নির্ভয় প্রদান করে উদ্ধার করা পুলিশের দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সে হিসেবেই তাকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, চলতি মাসের পলাশ নামের এক ব্যাক্তি অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই সালেমান শাহ পাড়া এলাকার লুৎফর রহমানের বাড়িতে ৬/৭ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে। এ সময় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য ও র‌্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাড়ির আলমারি, শোকেস, ড্রয়ারসহ বিভিন্ন স্থান তছনছ করে। পরে তারা লুৎফর রহমানকে না পেয়ে স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে তুলে নিয়ে যায়। 

রাতেই অপহরণকারীরা স্বজনদের কাছে ফোন করে ভিকটিমদের উদ্ধারের জন্য ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি চিরিরবন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরই মধ্যে পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের ৮ লাখ টাকা দিতে চায়। সেই মোতাবেক অপহরণকারীরা টাকা নিতে দশমাইল এলাকায় আসলে পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করে।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, মাইক্রোবাসচালক হাবিব, নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার এনামুল হকের ছেলে ফসিহ উল আলম পলাশকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তারা আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। 

মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের মৃত এন্তাজুল হকের ছেলে আরেফিন শাহ, শহরের ৬ নম্বর উপশহর খেরপট্টি এলাকার সোহেল, সুইহারী চৌরঙ্গী বাজারের রিয়াদ, ২ নম্বর উপশহর এলাকার সুমন ও ৩ নম্বর উপশহর এলাকার জাহিদ। 



সাতদিনের সেরা