kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

নন্দীগ্রামে সাড়ে তিন কোটির হাসপাতাল, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি খুলে পড়ছে কপাট

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২৮ আগস্ট, ২০২১ ১৫:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নন্দীগ্রামে সাড়ে তিন কোটির হাসপাতাল, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি খুলে পড়ছে কপাট

বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌর শহরে ৩ কোটি ৫৪ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যার গত ১৫ বছরেও চালু হয়নি। লাখ লাখ টাকার মেশিন বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। কবে নাগাদ হাসপাতাল চালু হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। লোকবল চাওয়া হয়েছে। পেলে হাসপাতালগুলো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বিগত বিএনপি সরকার আমলে পৌর শহরে ২০ শয্যা একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুসাঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০৫ সালে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তড়িঘরি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ ডা. জিয়াউল হক মোল্লা।

২০০৮ সালে নন্দীগ্রাম হাসপাতালের জন্য ১৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর মধ্যে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ছয়জন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স, একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন ল্যাব সহকারী। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, হাসপাতালটি নির্মাণে সরকারের সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা খরচ হলেও চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমেছে। ঘুনপোকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট। লোকবলের অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট হয় যাচ্ছে।

এছাড়া নন্দীগ্রাম পৌরসভার আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের জন্য হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিজরুল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ৪০ কিলোমিটার দূরে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয় তাদের। এই হাসপাতালটি চালু হলে জনগণের দুর্ভোগ কমে আসবে।

বর্তমানে ২০ শয্যা হাসপাতালে একজন মেডিকেল অফিসার ও প্রেষণে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে বর্হিবিভাগ।

চিকিৎসা নিতে আসা রুহি বেগম বলেন, গরীব মানুষ টেকার অভাবে বগুড়া যাবার পারিচ্চি না। ঔষধ কিনবার পারিচ্চি না। পায়ের বেদনা (ব্যথা) লিয়ে এটি অ্যানো, সাদা সাদা বড়ি ছাড়া কিছুই দিল না।

কর্মরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার কাজী ফজলে রাব্বী সিহাব বলেন, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া রোগীদের কোনো সেবা দেওয়া যায় না।

জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, লোকবলের অভাবে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছে না। জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা